
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফোনালাপের অডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অডিওটিতে লক্ষ্মীপুর জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ফারুক হোসেনকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক এক ব্যক্তির কাছে পাসপোর্টের কাজ, ভিসা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটি কার্ড বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতে শোনা যায়। দলীয় একটি সূত্র জানায়, তিনি এসব কাজের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন এবং কথোপকথনের একপর্যায়ে ‘এটা ভিপি নুরের নির্দেশ’ বলেও উল্লেখ করেন। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আজ সোমবার রাতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক নাঈম হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফারুক হোসেনকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাদিম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামের নির্দেশে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর নিজের ফেসবুক আইডিতে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার নাম বলে ধান্দাবাজি করে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম জানান, অডিওটির প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পরেই তাকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামে আজ রাত ১১টার দিকে বলেন, ‘অডিওটা আমার শুনেছি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত ফারুক হোসেন। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় একটি চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর কণ্ঠ সম্পাদনা করে এই অডিও তৈরি করেছে। ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমি বহিষ্কারের বিষয়টি শুনেছি। মূলত আমার এলাকার সাকিব নামে এক ছোট ভাইয়ের পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য আমি পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই পাঁচ হাজার টাকাকে পাঁচ লাখ টাকা বানিয়ে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, অডিওতে তাঁর বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.