১২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী ১০ বছরে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: বিজন ইসলাম

Published: September 27, 2026, 9:55 pm

লাইটক্যাসল পার্টনার্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিজন ইসলাম মনে করেন, বাংলাদেশ সঠিক সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে আগামী এক দশকে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে। সম্প্রতি এক পডকাস্ট আলোচনায় তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। বিজন ইসলাম বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার, দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, কম বিতরণ ব্যয়, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের মতো বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও দেশ স্বল্পমেয়াদে নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে তিনি আশাবাদী। লাইটক্যাসল পার্টনার্স প্রতিষ্ঠার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল। বিজন ইসলাম আরও বলেন, ‘আইবিএর দিনেগুলোর মতো একদিন ইফজাতের বাসায় রাতে আমরা একসঙ্গে ছিলাম।

নিজের উদ্যোক্তা জীবনের শুরুর কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ক্যারিয়ারের পঞ্চম বছরে সিটি ব্যাংকের করপোরেট চাকরির অভিজ্ঞতা শেষে তিনি প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। ব্যবসার গন্তব্যের চেয়ে তিনি যাত্রাকে বেশি গুরুত্ব দেন। এই যাত্রার শুরুতে আইবিএ’র সহপাঠী জাহেদ, ইফজাত ও সাইফকে সঙ্গে পান তিনি। দীর্ঘ আড্ডার পর ধানমন্ডি লেকে হাঁটার সময় প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। একসময় বছরে ৪০ থেকে ৫০টি কাজ করলেও এখন তারা বছরে ২৫ থেকে ৩০টি প্রজেক্টের ওপর মনোযোগ দিচ্ছেন। গেটস ফাউন্ডেশন, মেটা, ডাচ দূতাবাস, সুইস দূতাবাস ও এইচঅ্যান্ডএম ফাউন্ডেশনের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান তাদের দীর্ঘমেয়াদী ক্লায়েন্ট হিসেবে যুক্ত আছে। গত ১০ বছরে লাইটক্যাসল বাংলাদেশে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেছে। চারজন মিলে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করি আমরা।’।

বাংলাদেশে ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং বা গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সীমিত বিকাশের বিষয়ে বিজন ইসলাম বলেন, কনসাল্টিংয়ের চাহিদা সাধারণত বড় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রথম প্রজন্মের মালিকানাধীন বা দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের ব্যবস্থাপনায় চলছে। এসব ব্যবসা ধীরে ধীরে পেশাদার ব্যবস্থাপনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গবেষণা ও কনসাল্টিং সেবার চাহিদাও বাড়বে। তিনি আরও বলেন, এই খাতে ‘লিগ্যাসি’ বা দীর্ঘস্থায়ী ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাককিনসি, বিসিজি, বেইন বা পিডব্লিউসি’র মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ‘কোম্পানি মেমোরি’ বা অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার দিয়ে দ্রুত সমাধান দিতে পারে। লাইটক্যাসলও এই অভিজ্ঞতাকে তাদের প্রতিযোগিতামূলক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছে। আর সেই যাত্রায় কারা সঙ্গে থাকছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পর্বটি প্রচারিত হয় গত শনিবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে। পডকাস্টের শুরুতেই সঞ্চালক জানতে চান, আইবিএ বা বড় বড় বিজনেস স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে অনেকেই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে গেলেও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বা ম্যানেজমেন্ট কনসালটিংয়ে কেন যেতে চান না। অন্যান্য অনেক বাজারে যে পরিবর্তন আরও আগে হয়েছে, বাংলাদেশে সেটি এখনো পুরোপুরি হয়নি।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি ‘এক্সপোর্ট বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ দেন। বিজন ইসলামের মতে, সরকার যদি কোনো প্রতিষ্ঠানকে টেকসই করতে চায়, তবে সেটির মালিকানা সরকারি হলেও ব্যবস্থাপনায় আলাদা কাঠামো ও পেশাদারিত্ব থাকা জরুরি। এছাড়া পারিবারিক ব্যবসার উত্তরসূরিদের ক্ষেত্রে তার পরামর্শ হলো, সরাসরি পরিচালনা পর্ষদে না বসে বরং প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদ থেকে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা বেশি কার্যকর। প্রয়োজনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বাইরের পেশাদারদের নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

দেশের মেধাবী কর্মীদের বিদেশে চলে যাওয়া বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’ নিয়ে তিনি বলেন, লাইটক্যাসল বৈশ্বিকভাবে কাজ করার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। সিঙ্গাপুর ও ওয়াশিংটনে অফিস থাকার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের বড় অংশের কর্মী বাংলাদেশি। তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠানে মেধাবীদের কাছ থেকেই ভবিষ্যতে অংশীদার ও মালিক তৈরি করার প্রক্রিয়া চলছে। গত পাঁচ বছরে প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার ব্যবসায়িক পিচ শোনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি জানান, যারা আগে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, উদ্যোক্তা হিসেবে তারা সাধারণত ভালো করছেন। সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার রূপান্তর এখনো চলমান, যা পূর্ণতা পেতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। জাহেদ তখন এইচএসবিসি ব্যাংকে আর ইফজাত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডে কাজ করার পর একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন।