
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চার আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক পথ উন্মুক্ত হলো। রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই চার্জশিট আমলে নেওয়ার আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলায় পলাতক অপর তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
শুনানির সময় কারাগারে থাকা আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চার্জশিট আমলে নেওয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন চূড়ান্ত বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। মামলার অন্য তিন আসামি পলাতক থাকায় আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযুক্ত অন্য তিন আসামি হলেন আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হক, ভাগনে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ের মোহাম্মদ ইকবাল। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুদক উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম চারজনকে অভিযুক্ত করে এই মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর একই কর্মকর্তা আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আনিসুল হকের নামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে পারিবারিক খরচ বাদ দিয়ে তাঁর বৈধ উপায়ে অর্জিত নিট আয় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে তাঁর আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকার সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তাঁর নিকটাত্মীয় তিনজনের নামে রয়েছে ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকার অস্থাবর সম্পদ। এর মধ্যে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগমের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ভাগনে ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকার সম্পদ চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আনিসুল হক ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক, যেখানে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলন করা হয়।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.