
নিউইয়র্কের পশ্চিমা কুইন্সের সানিসাইড রেলইয়ার্ডকে ঘিরে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। এই রেলইয়ার্ডের ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক জনপদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব ঘুচিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মামদানির মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার গ্রেসি ম্যানশনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পটি আবারও উপস্থাপন করেন। মূলত সানিসাইড ইয়ার্ডের ১৮০ একর জায়গার ওপর একটি নতুন নগরী নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে রেললাইন থাকবে মাটির নিচে এবং ওপরে গড়ে উঠবে ১২ হাজার সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্প।
প্রকল্পটির মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ হাজার আবাসনের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ইউনিট হবে মিশ্র-আয়ের মানুষের জন্য। আবাসন ছাড়াও সেখানে স্কুল, পার্ক এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। সিটি হলের তথ্যমতে, এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩০ হাজার ইউনিয়নভুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে। মূলত এই কাজের জন্য ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল সহায়তা এবং সরকারের একাধিক কেন্দ্রীয় অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। এর আগেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে মামদানি এই বিপুল পরিমাণ ফেডারেল অর্থায়নের দাবি জানিয়েছিলেন।
সানিসাইড রেলইয়ার্ডটি নিজের পরিচিত এলাকা উল্লেখ করে মামদানি জানান, জায়গাটির আধুনিকায়নের জন্য প্রায় ৫০ বছর ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ১৯১০ সালে এই রেলইয়ার্ডটি চালু হওয়ার পর থেকে সেখানে আবাসন, কনভেনশন সেন্টার, ট্রানজিট টার্মিনাল এমনকি স্টেডিয়াম নির্মাণের অনেক প্রস্তাব এসেছে। এমনকি ১৯৮৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই স্থানে একটি ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে যাচাই-বাছাই করেছিলেন। ২০২০ সালে সানিসাইড ইয়ার্ড মাস্টার প্ল্যান প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে উন্নয়ন আলোচনার গতি বৃদ্ধি পায়।
সাম্প্রতিক এই বৈঠকের ইতিবাচক ফলাফলের বিষয়ে মামদানি বলেন, এখন সিটি হলের আবাসন ও পরিচালন দল এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার একটি নতুন ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে। বর্তমান প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ১২ হাজার ৪৯১টি সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ অথবা সংরক্ষণের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে সাশ্রয়ী আবাসন খাতে ২২ বিলিয়ন ডলারের মূলধনী বিনিয়োগের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সানিসাইড প্রকল্পটি তারই একটি বড় অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু প্রায় শত বছর ধরে আলোচনায় থাকা এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের বড় চাবিকাঠি এখন ওয়াশিংটনের হাতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি মেলেনি, তবে দুই প্রশাসন আলোচনা আরও এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে থাকা ট্রাম্প সোমবার মেয়রের সরকারি বাসভবনে মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজনৈতিক ও নীতিগতভাবে দুই নেতার অবস্থানে বড় পার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কের আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহযোগিতার ক্ষেত্র খোঁজার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পশ্চিম কুইন্সের প্রায় ১৮০ একর সানিসাইড রেলইয়ার্ড কোনো খালি জমি নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ওপর দিয়ে অ্যামট্র্যাক, লং আইল্যান্ড রেল রোড ও নিউ জার্সি ট্রানজিটের ট্রেন চলাচল করে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই ডেক কার্যত নতুন জমিতে পরিণত হবে, যেখানে ধাপে ধাপে গড়ে উঠবে আবাসন ও নাগরিক অবকাঠামো।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.