
ভারতের আসাম রাজ্যে বাঙালি মুসলিমদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ এবং ১০টি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী এবং সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বসতি স্থাপনকারী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী অভিযোগ করেন, ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা চরম হুমকির মুখে রয়েছে। তিনি আসামের সাম্প্রতিক এই উচ্ছেদ অভিযানকে ১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংগঠনের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান বলেন, যদিও ভারত সরকার এই উচ্ছেদকে সরকারি এবং বন বিভাগের জমি উদ্ধারের প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে, তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করা অপরিহার্য। তিনি উচ্ছেদকৃত মসজিদগুলোর বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ওলামা অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো বিশেষ জনপদকে লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এক্ষেত্রে ভারতীয় মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।
উচ্ছেদ ও ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যের মূল কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া আসামের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।





