
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘাতের জেরে দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ বা প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৮ জন মানুষ দৈনন্দিন মৌলিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে চরম সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এই তথ্য জানিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউএফপি বলেছে, ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে তুমুল যুদ্ধের কারণে প্রায় আট লাখ মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। জাতিসংঘের সংস্থাটির মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির মধ্যে এই তাইজ শহরেই খাদ্য নিরাপত্তার সংকট সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। নতুন করে এই সংকট তৈরি হওয়ায় বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে তা সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, চলমান সংঘাতের কারণে হাসপাতালগুলোতে আহত মানুষের ভিড় উপচে পড়ায় দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি)।
আইসিআরসির স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ফেরাস আবুসামরা এক বিবৃতিতে জানান, গত ১৪ অক্টোবর সকালে হাসপাতালগুলোতে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম, গ্যাংগ্রিন ও অ্যানাস্থেশিয়ার ওষুধ এবং অক্সিজেনসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো ওষুধ, প্রয়োজনীয় টিকাদান এবং মাতৃত্বকালীন জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এসব প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসাকর্মীরা আহত রোগী ছাড়াও মা, শিশু এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্তদের সেবা দিতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংকট মোকাবিলায় সংঘাত বৃদ্ধির পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০ টনের বেশি চিকিৎসাসামগ্রী দেশে পাঠিয়েছে আইসিআরসি। আইসিআরসি উল্লেখ করেছে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত, অর্থনৈতিক দুর্দশা ও মহামারির কারণে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য খাত একেবারেই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.