
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত দুজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া এই হামলায় চারজন সৌদি ও একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের অনেকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এ ছাড়া মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। এরও আগে কিং খালিদ ও আবহা বিমানবন্দরে হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রবিবার এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর হামলায় ৩০৯ জন আহত হওয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করে। তারা জানায়, হতাহতদের সার্বিক পরিচয় ও আহতদের বিস্তারিত অবস্থা সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশে কাজ চলছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবারের পৃথক এক হামলায় তিনজন সৌদি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছিল। সংঘাতের পক্ষগুলোর প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে সামনে এসেছে।
সৌদি সামরিক কর্মকর্তা ও ইয়েমেন সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির নিয়ন্ত্রণ আবার ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। তবে তাদের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা।
রিয়াদের এই ভয়াবহ ও ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ১১ অক্টোবর জাতিসংঘ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস জোর দিয়ে বলেন যে বেসামরিক জনগণ ও তাদের ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অবিলম্বে এই ধরনের সহিংস হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার তাগিদ দেন। গোষ্ঠীটি এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে।
ইয়েমেনের চলমান পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ। তিনি উল্লেখ করেছেন, সংঘাতময় দেশটি আবারও একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের মুখে গিয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের উপ জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া এক প্রতিবেদনে জানান, চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত ইয়েমেনে প্রায় দুই লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন। ২০২২ সালে দুই পক্ষের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এটিই নতুন করে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা। রিয়াদ বিমানবন্দরে রক্তক্ষয়ী এ হামলার পর জাতিসংঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক বক্তব্যটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বেসামরিক সুরক্ষার গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং একাধিক ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা ও ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তিও বেড়েছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.