
আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা বিষয়ক’ (সিআইসিএ) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের বক্তব্য চলাকালে ওয়াকআউট করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট বক্তব্য দিতে শুরু করলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্রতিবাদস্বরূপ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন। গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর চলমান মানবতাবিরোধী হত্যাযজ্ঞের প্রেক্ষিতে এই কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও একই কারণে হল ত্যাগ করেছিলেন।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শান্তি ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, যিনি এ লক্ষ্যে বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসময় তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য ফলাফলভিত্তিক খাতওয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, অংশীজনদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরাসরি অনুষ্ঠান আয়োজন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আইসিটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিনিময় বৃদ্ধি করা।
১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা সিআইসিএ ফোরামটির মূল লক্ষ্য হলো এশিয়া অঞ্চলজুড়ে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বাকুতে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য আজারবাইজানের ওপর সিআইসিএ-এর সভাপতিত্বের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ফোরামের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে মহামান্য সুলতান হাজিয়েভের নিয়োগকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সম্মেলনটি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।





