
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। মঙ্গলবার দেশটির টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপ থেকে এমন আভাসই পাওয়া গেছে। জরিপের তথ্যমতে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—উভয়েই ৫১টি করে আসন পেতে পারে। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসনের যে প্রয়োজন, তা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারছে না। আইজেনকোট বলেছেন, বুথফেরত জরিপ নেতানিয়াহুর প্রতি জনগণের আস্থার ঘাটতি তুলে ধরেছে। নতুন সরকারকে দায়িত্ব নিতে হলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে।
এই পরিস্থিতি দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক দর-কষাকষির আশঙ্কা তৈরি করেছে। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া সব সময়ই ভালো।’।
সরকার গঠনের দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো, যারা জরিপে ১৮টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যান্য রাজনৈতিক দল যদি এদের সঙ্গে জোট গড়তে সম্মত হয়, তবেই সরকার গঠন সম্ভব হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষি চলতে পারে।
তবে বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ একে নেতানিয়াহু জোটের ‘চরম পরাজয়’ ও ‘ধস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, লিকুদ পার্টির সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারের মতে, বিরোধীদের আগাম বিজয় উদ্যাপন অকালপক্কতা ছাড়া আর কিছু নয়, কারণ লিকুদ এখনো এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে টিকে আছে। নেতানিয়াহু গত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ বছর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এর আগেও অনেক সংকট এসেছে। ফিলিস্তিনি গবেষক এহাব জাবারিন আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, যদিও জরিপটি নেতানিয়াহুর জোটের শক্তি কমে যাওয়ার সংকেত দিচ্ছে, তবে এখনই তাকে পুরোপুরি রাজনৈতিকভাবে শেষ মনে করা ঠিক হবে না। কোনো পক্ষই সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আলোচনার সময়কাল পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে দুই নেতার মধ্যে মেয়াদ ভাগাভাগি করে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সমঝোতাও হতে পারে। তবে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক বছরের মধ্যেই সেই সরকার ভেঙে পড়ে।
সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপগুলো এখনো অনিশ্চিত। আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর তিনি যাকে সরকার গঠনের জন্য উপযুক্ত মনে করবেন, তাকে দায়িত্ব দেবেন। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে দায়িত্ব দিতে হবে, এমন কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। মনোনীত প্রার্থী সাধারণত ২৮ দিন সময় পাবেন এবং প্রেসিডেন্ট চাইলে তা আরও ১৪ দিন বৃদ্ধি করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত কোনো প্রার্থী ব্যর্থ হলে, দ্বিতীয় আরেকজন প্রার্থীকে ২৮ দিনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। সরকার গঠনের জন্য মনোনীত প্রার্থী সর্বোচ্চ ৪২ দিন সময় পাবেন।
চরম পর্যায়েও যদি কোনো প্রার্থী ৬১ জনের সমর্থন জোগাড়ে ব্যর্থ হন, তবে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় কোনো প্রার্থীকে মনোনীত করতে পারেন, যিনি আরও ১৪ দিন সময় পাবেন। এই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে পুনরায় জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইসরাইলে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এমন তিন দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহু ও বেনি গান্তজের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি চুক্তি হয়েছিল।
তবে বর্তমান আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিষয়ে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট উভয়েই তাদের অনীহা ও অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বিশ্লেষক আসাফ রোনেলের মতে, নেতানিয়াহুর ‘দুঃস্বপ্নের সরকার’ অবসানের সুযোগ থাকলেও, আরব দলগুলোর সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে বিরোধী নেতাদের আপত্তির জায়গাটি বড় একটি বাধা। যদি তারা নিজেদের বৈষম্যমূলক অবস্থান থেকে সরে আসতে না পারে, তবে ইসরাইলের সামনে আবারও নির্বাচনের ঝুঁকিই সবচেয়ে বেশি।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.