১২ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের মানচিত্রে ফাঁস গাজার সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি

Published: September 27, 2026, 6:51 pm

ইসরায়েলের সরকারি মানচিত্র সেবায় সাময়িকভাবে প্রকাশিত গাজার উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ছবিতে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একাধিক ঘাঁটি ও স্থাপনার অবস্থান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ঘটনার পর মানচিত্রের সেই অংশগুলো পুনরায় ঝাপসা করে দেওয়া হয়। গত সোমবার গাজা উপত্যকার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্তকারী একটি এক্স অ্যাকাউন্ট প্রথম এই বিষয়টি নজরে আনে। সাধারণত নিরাপত্তার খাতিরে ইসরায়েলের গভম্যাপে পুরো গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকাগুলো অস্পষ্ট রাখা হয়। তাই এই ধরনের স্পষ্ট ছবি প্রকাশ পাওয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরেক এক্স ব্যবহারকারী ছবিগুলোর সংরক্ষিত সংস্করণ প্রকাশ করেন।

প্রকাশিত ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের বিভিন্ন এলাকার দৃশ্য রয়েছে। যেহেতু ছবিগুলো ২০২৫ সালের, তাই সামরিক স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা এতে হুবহু প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তবে এই ছবিগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতার পাশাপাশি সামরিক বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনার উপস্থিতি চিহ্নিত করা গেছে। যদিও মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে যে তারা স্বতন্ত্রভাবে ছবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে বিভিন্ন সময় পাওয়া গাজার সামরিক উপস্থিতির তথ্যের সঙ্গে এর মিল রয়েছে। বেইত হানুন ও গাজা সিটির শুযাইয়া এলাকায় পুরো ব্লকজুড়ে ধ্বংসস্তূপের চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া জাইতুন এলাকার কার্নি ক্রসিং ও পূর্ব জাবালিয়ায় মাটির তৈরি প্রতিবন্ধক এবং সামরিক যানবাহনের উপস্থিতি বেশ স্পষ্ট ছিল। একইভাবে গাজা সিটির শুযাইয়া এলাকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন ও রাস্তাঘাটের চিত্রও উঠে এসেছে।

সিবিসি নিউজের এক স্বতন্ত্র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাজার কিছু এলাকায় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে সেখানে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি তৈরির প্রমাণ মিলেছে। ফোরেনসিক আর্কিটেকচারের গবেষক জুলিয়া নুয়েনো গিতার্তের ভাষ্যমতে, তাদের পর্যালোচনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার অন্তত ৪৩টি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, সেনাদের ঝুঁকি কমানো ও কৌশলগত সামরিক প্রয়োজনে তারা স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে। তাদের দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক আইন এবং নির্ধারিত সামরিক নির্দেশনা মেনেই পরিচালনা করা হচ্ছে।