২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তরায় জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর

Published: October 12, 2026, 1:25 pm

রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসভবনে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। জাপা চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি শৌর্য দীপ্ত সূর্য জানান, প্রায় দেড়শতাধিক ব্যক্তি উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত এই বাসভবনে অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার পরপরই পুলিশকে অবহিত করা হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আমরা পুলিশকে ইনফর্ম করেছি।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সটকে পড়ে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাসভবনের বাইরের দিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার রেজাউল করিমও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। পুলিশ এখন এখানে এসেছে। কারা এই হামলায় জড়িত—তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে৷ এ ঘটনায় কারা জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।

এই হামলার ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের গ্রেপ্তারের দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। ‘স্বৈরাচার বিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাতের অভিযোগ তোলেন। বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে জি এম কাদেরের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কর্মসূচিতে তার প্রতিকৃতি প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ মিছিলের ওই ব্যানারে কারাগারে বন্দি জিএম কাদেরের প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষের প্রাণহানির বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশেও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। এছাড়া বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার মাধ্যমে জাতীয় পার্টি পূর্ববর্তী সরকারকে রাজনৈতিক বৈধতা দিয়েছিল বলেও তারা অভিযোগ করেন। তাদের স্লোগান ছিল, ‘জুলাইয়ের শহিদদের রক্তের সাথে বেইমানি করে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার সাথে যোগাযোগ; জি এম কাদেরের গ্রেপ্তার চাই’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’। তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী দোসরদের কোনো জায়গা হবে না।