
চলমান দাঙ্গা ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এবং লে আল শপিং এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি এলাকায় জনসমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলের মতো বড় শহরগুলোতেও জননিরাপত্তায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সহিংসতার সময় প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি শহরে পুলিশ হিমশিম খেয়েছে বলে স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। এমন নাজুক অবস্থায় পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেননি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো।
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, জ্বালানি সংকট ও জনসেবার অবনতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভটি সহিংস রূপ নিলে বিভিন্ন স্থানে ভবন ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো জানিয়েছেন, দুই হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধারে অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানিয়েছেন, সহিংসতার জন্য দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি প্রধানমন্ত্রী। জনজীবন স্বাভাবিক করতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.