
ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় ইতিহাস, ভাষা এবং শিক্ষার রাজনীতি কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা এক গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে। স্পেনের ইনকা সভ্যতা দখলের ইতিহাস এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ১৫৩২ সালের নভেম্বরে ইনকা সম্রাট আতাহুয়ালা ও পিজারোর বাহিনীর সৌজন্য সাক্ষাতের নামে শুরু হয়েছিল ভয়াবহ প্রতারণা। পিজারোর দল সশস্ত্র অবস্থায় উপস্থিত হয়ে সম্রাটকে খ্রীষ্টধর্ম গ্রহণের প্রস্তাব দেয় এবং বিনিময়ে প্রতারণামূলকভাবে বিশাল সম্পদ লুণ্ঠন করে। মুক্তিপণের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, ১৫৩৩ সালের আগস্টে ইনকা সম্রাটকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়, যা ওই সভ্যতার চূড়ান্ত পতনের সূচনা করে।
একই ধরনের উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়া উত্তর আমেরিকাতেও দেখা গেছে। ১৬০৭ সালে ভার্জিনিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ইংরেজ অভিযাত্রীরা জেমসটাউনে বসতি স্থাপন করে। সেখানকার স্থানীয় পাওহাটান সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুরুতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও, পরে খাদ্যাভাব ও প্রতিকূল পরিস্থিতির সুযোগে ইংরেজরা নৃশংসতার আশ্রয় নেয়। একপর্যায়ে পাওহাটান রানী ও সন্তানদের অপহরণ করে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় এবং ফসল ধ্বংস করে পুরো জনপদকে অস্থিতিশীল করে তোলা হয়।
ফরাসি ঔপনিবেশিক শক্তির নির্মমতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে আলজেরিয়ায়। কর্নেল মন্তানিয়াকের মতো সামরিক কর্মকর্তারা খোলাখুলিভাবে গণহত্যা, লুণ্ঠন এবং বয়সের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকা জুড়ে ইউরোপীয় শক্তিগুলো সভ্যতার দোহাই দিয়ে যে রক্তক্ষয়ী নীতি অনুসরণ করেছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক আধিপত্য ও অর্থনৈতিক শোষণ।
ধর্মীয় বিশ্বাসের ব্যবহারও ছিল এই ঔপনিবেশিক প্রকল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পোপের অনুমোদনে ক্যাথলিক ধর্ম প্রচারের নামে স্থানীয়দের জমি ও সম্পদ দখলের প্রক্রিয়া বৈধ করার চেষ্টা করা হয়। বাইবেলের নির্দিষ্ট কিছু বাণীকে বিকৃত বা অপব্যাখ্যা করে উপনিবেশবাদীরা নিজেদের আগ্রাসনকে বিধিসম্মত করার চেষ্টা চালিয়েছে। উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে এই অতীত ইতিহাসের প্রভাব আজও গভীরভাবে বিদ্যমান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি- ৫। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্রাট আতাহুয়ালা সোটোর প্রার্থনা মঞ্জুর করলে, মধ্য নভেম্বরে, পিজারোর দলটি কাজামারকা নগরে প্রবেশ করে এবং পরদিনই নগরীর কেন্দ্রীয় উন্মুক্ত চত্বরে উভয় পক্ষের সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্রাট আতাহুয়ালা রাজকীয় পোশাকে, খোস মেজাজে, একটি স্বর্ণখচিত বহনযোগ্য সিংহাসনে চড়ে, উৎসবের ঝলমলে পোশাক পরিহিত পারিষদবর্গ ও স্থানীয় পোশাকি অস্ত্রে সজ্জিত প্রহরীর দল সমভিব্যাহারে যথাস্থানে হাজির হন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পিজারোর দলের সঙ্গে এই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎকে ইনকা সম্রাট একটি নিতান্তই ‘ধর্মীয় আচার’ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন, ফলে তার সেনাদলকে নগরের দূরবর্তী প্রান্ত অঞ্চলে অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে, পিজারো ও তার দেড় শতাধিক সঙ্গীর দল সেখানে পুরোপুরি সশস্ত্র অবস্থায় হাজির হয় এবং সাক্ষাৎ হওয়ামাত্র পিজারোর একজন দলসঙ্গী, খ্রীষ্টধর্মের এক যাজক, নিজেদেরকে ‘আসল’ ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে, সম্রাট আতাহুয়ালপার হাতে একটি বাইবেল তুলে দিয়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই অনাকাঙ্ক্ষিত সব প্রস্তাবে ইনকা সম্রাট বিস্মিত, অপমানিত ও রাগান্বিত হয়ে প্রত্যাখ্যান করলে, সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য ইতিপূর্বে প্রস্তুত পিজারোর দল প্রায় নিরস্ত্র ইনকা সম্রাট ও তার পরিষদবর্গের ওপর রক্তাক্ত হামলা পরিচালনা করে সম্রাটকে বন্দি করে ফেলতে সমর্থ হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এভাবেই, ওয়েলম্যানের ভাষায়, ‘ইনকা সম্রাটের আপ্যায়নের ঋণ রক্ত নিয়ে পরিশোধ করা হয়’।২১। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্রাটকে বন্দি অবস্থায় রেখে, পিজারো বাহিনী পুরো নগর জুড়ে হত্যাযজ্ঞ ও লুটতরাজের মাধ্যমে প্রভূত সম্পদ, বিশেষত সোনা ও রূপা আহরণ করে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.