১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: পুলিশ

Published: September 25, 2026, 8:44 pm

ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিএমপি।

সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মন্তব্যের বিষয়ে এক সাংবাদিক জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমি এখন পর্যন্ত বলতে পারব না যে, সে এই বক্তব্য কেন দিয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে সে কেন এই বক্তব্য দিল। অবশ্যই আমার মনে হয় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। তাহলে কি বলা যাবে যে পুলিশ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে— এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার বলেন, এটা আমি বলতে পারব না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য

সরকার তিন দাবি মেনে নিলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত সোমবার রাতে এনসিপির মিছিল শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তিনটা দাবিতে অনবরত রাজপথে আছি। এই দাবিগুলো মানলেই তো ককটেল আর ফুটবে না ঢাকা শহরে। ইমনের বিরুদ্ধে ডিএমপির শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুইটি মামলা রয়েছে।

কেরানীগঞ্জে অভিযান ও গ্রেপ্তার

সংবাদ সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য ও ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি করা ৯ হাজার কাগজের মুখোশসহ জাহিদ হাসান ইমন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামপুর থানা-পুলিশ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তের একপর্যায়ে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন বাগাশুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত দেড় কেজি কস্টিক সোডা, দেড় কেজি সালফার, পাঁচ কেজি মারবেল, ১ ইঞ্চি তারকাঁটা ২ কেজি, ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত লাল টেপ ২০টি ও কালো টেপ ১১টি এবং কাগজের তৈরি মোট ৯ হাজার মুখ।

  • দেড় কেজি কস্টিক সোডা ও দেড় কেজি সালফার উদ্ধার করা হয়।
  • পাঁচ কেজি মারবেল ও দুই কেজি তারকাঁটা জব্দ করা হয়েছে।
  • লাল টেপ ২০টি ও কালো টেপ ১১টি পাওয়া গেছে।
  • কাগজের তৈরি মোট ৯ হাজার মুখোশ ও ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক উদ্ধার করা হয়।
  • উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার জব্দ করা হয়েছে।

জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের এক নেতার মাধ্যমে এসব মুখোশ ও বিস্ফোরক দ্রব্য জাহিদ হাসানের কাছে আসে। জাহিদ নিজেও লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্বীকার করেছেন তার সঙ্গে এই কাজে নিষিদ্ধ ওই সংগঠনের অনেকেই জড়িত আছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। বিভিন্ন মিছিল ও অপরাধ করে নিজেকে লুকানোর জন্য এসব মুখোশ ব্যবহার করা হতো বলে তাদের ধারণা। এসব বিস্ফোরক দিয়ে ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল বলে জানান এই কর্মকর্তা।