
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমি বিক্রি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় জাহাঙ্গীর আলম (২৯) নামের এক যুবক মারা গেছেন। নিহত জাহাঙ্গীর কমলগঞ্জ পৌরসভার বড়গাছ গ্রামের উম্মর মিয়ার ছেলে এবং তিনি ১৪ মাস বয়সী শুভ নামের এক সন্তানের জনক ছিলেন। এ হামলার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিমও মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়নুল হক (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনরা জানান, উপজেলার রামপাশা গ্রামের দুলা মাস্টারের লন্ডনপ্রবাসী ছেলে রিপন আহমেদের জমি বিক্রির বিষয় নিয়ে মধ্যস্থতাকারী জাহাঙ্গীরদের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে মাহমুদ মিয়া (৩৫), মামুন মিয়া (৩০) ও ময়নুল হকের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। গত রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাহাঙ্গীরের চাচাতো ভাই সাহেল জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে দুজনকে সঙ্গে নিয়ে আসেন এবং আলোচনার জন্য বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জসিমকে ডাকেন। জসিম সেখানে উপস্থিত হলে অভিযুক্তরা বাধা দেয় এবং তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে। জসিমকে বাঁচাতে ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলম এগিয়ে এলে তাঁকেও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করে রক্তাক্ত করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা দুই ভাইকেই উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে জাহাঙ্গীর মারা যান। স্বজনরা জানান, ইতিপূর্বে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার বিষযে়ও হামলাকারীদের সাথে তাঁদের একটি বিরোধের ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া গ্রামে মাদ্রাসার একটি বিষয় নিয়েও কিছুদিন পূর্বে হামলাকারীদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে নিহতের বাবা-মা ও স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। নিহতের চাচা সুন্দর আলীর দাবি, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা। হামলাকারীরা দা ও লাঠি আগে থেকেই সঙ্গে প্রস্তুত রেখেছিল। মামুন, মাহমুদ, ময়নুল, তাঁদের ভাগনে সামি এবং ভগ্নিপতি খয়ের একত্রিত হয়ে অতর্কিত এ হামলা চালায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেছে। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল উদ্দিন জানান, নিহতের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নুল হককে আটক করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। বাকি আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.