৯ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সংকটে আবারো বন্ধ যমুনা সার কারখানার উৎপাদন

Published: October 25, 2026, 3:58 pm

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় ফের গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক। নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য কারখানায় দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের চাপের প্রয়োজন থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ পুনরায় সংযোগ দিলে সার উৎপাদন শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে ৭ অক্টোবর বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হয়। সেই ত্রুটি সারিয়ে ১৬ দিন পর গত ২৩ অক্টোবর আবারও কারখানাটি উৎপাদনে ফিরেছিল। কিন্তু গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় দুই দিনের মাথায় ফের উৎপাদন বন্ধ রাখতে হলো। এর আগে গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় কারখানাটি বন্ধ ছিল। এছাড়াও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকেও একবার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানাটি গ্যাস সংকটের কারণে ৭ মাস বন্ধ ছিল। এতে উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হয়। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যমুনা সার কারখানাটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে পরিচালিত হয়। এখান থেকে উৎপাদিত সার জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় ডিলারদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়। কারখানাটি সচল থাকলে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয়, যেখানে লাভের পরিমাণ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অথচ উৎপাদন বন্ধ থাকলেও প্ল্যান্ট সচল রাখার প্রয়োজনে গ্যাস বিল বাবদ মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয় কর্তৃপক্ষকে। যমুনা সার কারখানা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে।