
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ২১ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে উপাচার্য ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এর আগে সকালে নিয়োগের তিন সপ্তাহ পর উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে তিনি নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন। সে সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নবনিযুক্ত উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন করেন।
নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ৯টার দিকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ত্যাগ করার সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বেরিয়ে না আসায় শিক্ষার্থীরা পুনরায় গেটে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় ‘নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’ এবং ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিরা তাজরীন অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা তালা দিলেও উপাচার্য তা ভেঙে ভবনে প্রবেশ করেছেন। নির্ধারিত সময়ে ভবন না ছাড়ায় তারা বাধ্য হয়ে আবারও তালা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
উপাচার্যের সঙ্গে অবরুদ্ধ অবস্থায় ভেতরে আটকা পড়েছেন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন। ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় ফুল ও খাবার নিয়ে উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের চেষ্টাকালে ছাত্রদলের কর্মীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাদানুবাদ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং বড় কোনো দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নেননি। ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যকে সহযোগিতা করা তাদের সাংগঠনিক অবস্থান। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থানে অনড় এবং নতুন উপাচার্যকে মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী জানিয়েছেন, তাদের এই আন্দোলন চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আজ বিকেলে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।





