
বিশ্ব কূটনীতির প্রাণকেন্দ্র এখন নিউইয়র্ক। যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু সংকট, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বহুমুখী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগদানের জন্য সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে পৌঁছান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের নর্থ ডেলিগেটস লাউঞ্জে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত এক স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতা এবং তাদের প্রতিনিধিদের সম্মানে এই প্রাতরাশের আয়োজন করা হয়। এটি জাতিসংঘের মঞ্চে সরকারপ্রধান হিসেবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রাতরাশে ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’—এই প্রতিপাদ্যটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। প্রাতরাশ শেষে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেন। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী, এই সাধারণ বিতর্ক পর্বটি ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের নিউইয়র্ক সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারপ্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে এটি তার প্রথম অংশগ্রহণ। সফরের মূল আকর্ষণ হিসেবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে তার ভাষণের কথা রয়েছে। যদিও নির্ধারিত এই সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে, তবে তার জন্য ১৫ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
কেবল সাধারণ পরিষদের ভাষণ নয়, বরং নিউইয়র্কে তার ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি থেকে টেকসই সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য উচ্চপর্যায়ের একটি ইভেন্টে অংশ নেবেন তিনি। এছাড়া ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধি দল এবং মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধানসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মহাসচিবের প্রাতরাশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর এই কয়েক দিনের সফর বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রধানমন্ত্রী সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তুলে ধরার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গেও বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই দিনে জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত রূপান্তরবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও তিনি অংশ নেবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।





