১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

Published: September 25, 2026, 6:35 pm

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের প্রশংসা করে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার প্রকাশিত এক অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এই ভাষণে দেশের জাতীয় স্বার্থ, জনমানুষের প্রত্যাশা এবং বৈশ্বিক নানা সংকটে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

অভিনন্দনবার্তায় বলা হয়, ফ্যাসিবাদী শাসন হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পর সুশাসন, মানবাধিকার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের কথা প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে একটি স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় এবং দেশের পুনর্গঠনে ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি আর’ কৌশল বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা, বহুপাক্ষিকতার প্রসার, ফিলিস্তিন সংকট, রোহিঙ্গা সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং নারী ও যুবসমাজকে শক্তিশালী করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্থান পেয়েছে। এছাড়া যুদ্ধ ও সংঘাতজনিত বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের নিখুঁত চিত্রও সেখানে উঠে এসেছে। অভিনন্দনবার্তায় রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে সৃষ্ট তীব্র চাপ, জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে।

জাতিসংঘকে সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ গড়ার কেন্দ্র হিসেবে দেখার রাষ্ট্রনায়কসুলভ দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সংঘাতময় পৃথিবীতে কূটনীতি ও পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার এই ডাক অত্যন্ত সময়োপযোগী। ‘সবার আগে বাংলাদেশ: সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতির মধ্য দিয়ে জনপদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিও জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ভাষণ প্রদানকে গোটা জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবময় অর্জন বলে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি। পরিশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ ভ্রমণসহ সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন। এ ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থানকে আরও সমুন্নত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।