
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার রাতে হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, এবারের সফরের প্রধান লক্ষ্য জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই সফরের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলাদা কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ও লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেবেন। দেশের স্বার্থ সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের রূপকল্প নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রী তার ভিশন বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। মাহ্দী আমিন এটিকে একটি ঐতিহাসিক সফর হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি এখানে এসেছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ।
বক্তব্যে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বমঞ্চে ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঠিক একইভাবে বাবা-মায়ের দেশপ্রেমকে ধারণ করে বাংলাদেশের অধিকারের কথা তুলে ধরবেন। মাহ্দী আমিন আরও জানান, আগামী বৃহস্পতিবার সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ প্রদান করবেন। আগের তুলনায় এই সফরটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, যেখানে যাতায়াতের সময় বাদে মাত্র চার কর্মদিবস তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন এবং সীমিত পরিসরে কিছু দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
সফরের বহর বা আকার সম্পর্কে মুখপাত্র জানান, প্রথা ভেঙে এবার খুব ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিকভাবে এই বহরে ৩৫ জন সদস্য রয়েছেন, যার পাশাপাশি শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় নিরাপত্তা কর্মী, মিডিয়া সদস্য ও ব্যক্তিগত স্টাফরা অন্তর্ভুক্ত আছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে সঙ্গী হয়েছেন।
মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন তিনি, যেখানে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন। এর আগে সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে আয়োজিত ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশনেও অংশ নেবেন সরকারপ্রধান। ওই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান।





