
দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই দশক পর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে উত্তাল ক্যাম্পাস। গত ১১ অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে সংঘাতের জেরে জেএমআইএসইউ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, যা পুনরায় চালুর দাবি উঠেছে। রোববার এই আন্দোলনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারী ও অনশনরত শিক্ষার্থীদের তাঁবু নিরাপত্তারক্ষীরা সরানোর চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সশরীরে ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইনে কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের প্রবেশপথ ও প্রস্থান পথ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অনশনরত ও আন্দোলনকারী ছাত্রদের জমায়েতের তাঁবু নিরাপত্তারক্ষীরা খুলে নিতে গেলে এবং তাদের জোর করে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক তর্কাতর্কি ও খণ্ডযুদ্ধ বাধে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মহম্মদ মেহতাব আলম রিজ়ভি একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। এতে ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনা শোকজ নোটিস এবং বহিষ্কারের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসে নিষেধাজ্ঞা বা ক্যাম্পাস ব্যান এবং বহিষ্কারের মতো যাবতীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। এর আগে গত শুক্রবার আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এবিন বেসিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার ও তিনজনের ক্যাম্পাসে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ভবিষ্যতেও এ নিয়ে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যাবে না।
কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও ছাত্ররা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। উপাচার্য ও চিফ প্রক্টরের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের সাংবাদিক সম্মেলন করে আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে করা মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দিয়েছে প্রশাসন। এই শর্ত মেনে নিতে নারাজ শিক্ষার্থীরা। তাই বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতেও শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে তাদের অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। তা সত্ত্বেও বিশাল পুলিশ বাহিনীর মোতায়েনের মধ্যেই ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক ছাত্র জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বিক্ষোভের চাপে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতি স্বীকার করলেও নতুন করে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দেয়ায় ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.