
অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের সমাপ্তি, বিচ্ছেদের মানসিক চাপ সামলে বিশ্বজুড়ে একের পর এক কনসার্ট এবং পরবর্তীতে নতুন সম্পর্কের সূচনা—সব মিলিয়ে জীবনের এক নতুন অধ্যায় পার করছেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি। সাবেক প্রেম ও বিচ্ছেদের কঠিন মুহূর্তগুলো পেরিয়ে তিনি এখন নতুন ভালোবাসার কথা অকপটে প্রকাশ করছেন। পেরি তাঁর জীবনের বর্তমান সঙ্গী হিসেবে বর্ণনা করেছেন কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে। রোববার, ২৫ অক্টোবর ছিল জনপ্রিয় এই তারকার ৪২তম জন্মদিন। গত ২ সেপ্টেম্বর বিনোদন সাময়িকী পিপল-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাঁর ‘লাইফটাইমস ট্যুর’ একদিকে যেমন ভক্তদের কাছে টেনে এনেছে, অন্যদিকে জীবনের ভালোবাসার মানুষকেও খুঁজে দিয়েছে। তিনি এখন নতুন গান, কনসার্ট চলচ্চিত্র এবং কন্যাসন্তান ডেইজিকে ঘিরেই জীবনের আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন। সেখানকার এক আলাপচারিতায় কেটি বলেন, জীবনের নানা ক্ষেত্রে নিজেকে এখন আরও স্থির মনে হচ্ছে তাঁর। এই অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য মানসিক ক্ষত সারিয়ে ওঠার মতো। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই মঞ্চে উঠেছেন, গান শুনিয়েছেন দর্শকদের। সংগীতজীবনের শুরুতে গসপেল গান করলেও পরে পপসংগীতে মনোযোগ দেন। এরপর ‘হট এন কোল্ড’, ‘ফায়ারওয়ার্ক’, ‘রোর’, ‘ডার্ক হর্স’ ও ‘ক্যালিফোর্নিয়া গার্লস’-এর মতো গান তাঁকে পপসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা করে তোলে। এরপর বিচ্ছেদ, কনসার্ট সফর ও নতুন সম্পর্ক—সব মিলিয়ে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে তাঁর জীবন।
জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে কেটি পেরির প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে, কেটির কানাডা সফরকালে। ওই বছরের ২৮ জুলাই মন্ট্রিয়লে তাঁদের দুজনকে একসঙ্গে নৈশভোজ করতে দেখা যায়। এর মাত্র দুই দিন পর ট্রুডো তাঁর মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে পেরির কনসার্টে হাজির হন। এরপর থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই দুজনের উপস্থিতি তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসে। সেপ্টেম্বরে পিপলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও উঠে আসে সেই সম্পর্কের প্রসঙ্গ। এতে দীর্ঘদিন চেপে রাখা ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ট্রুডোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা শুরুর কিছুদিন আগেই হলিউড অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুমের সঙ্গে কেটির বিচ্ছেদের বিষয়টি সামনে এসেছিল। ২০১৬ সালে তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয়। মাঝে কিছুটা বিরতির পর ২০১৯ সালে বাগ্দান সম্পন্ন করেন এই যুগল এবং ২০২০ সালে তাঁদের ঘরে আসে কন্যা ডেইজি ডাভ ব্লুম। তবে ২০২৫ সালের ৩ জুলাই দুজনের প্রতিনিধি যৌথভাবে তাঁদের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, ডেইজিকে যৌথ অভিভাবকত্বে সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। মাঝে সাময়িক বিচ্ছেদের পর আবার এক হন তাঁরা।
ট্রুডো জীবনে আসার পর নিজের ভেতরে মানসিক শান্তি ও স্থিরতা অনুভব করছেন বলে জানান কেটি। ২০২৬ সালের ৮ জুন নিউইয়র্কের ট্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের কনসার্টভিত্তিক ছবির প্রিমিয়ারে ট্রুডোকে সঙ্গে নিয়েই রেড কার্পেটে হাঁটেন তিনি। সেখানে পেরি মন্তব্য করেন, ট্রুডোর ভালোবাসা তাঁকে পরিপূর্ণতা দিয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও যোগ করেন, ট্রুডো তাঁর গানের নিয়মিত শ্রোতা এবং পেশাগত কাজে তাঁকে উৎসাহ দেন, যা অতীতের মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এমনকি ১২ জুন ইংলউডে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ে ম্যাচের আগের সংগীতানুষ্ঠানেও কেটির পাশে ট্রুডোকে দেখা গিয়েছিল। সেদিন ট্রুডোও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনের এই উত্থান-পতন কেটি পেরির সংগীতেও স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ‘ব্যান্ডএইডস’ গানে সম্পর্কের বেদনা ও মানসিক ক্ষতের কথা ফুটে ওঠে। এরপর ২০২৬ সালের ২৫ জুন মুক্তি পায় তাঁর গান ‘ওয়াচ ইট বার্ন’, যেখানে ক্ষোভ প্রকাশ এবং মুক্তি পাওয়ার গল্প বলা হয়েছে। ইউনিভার্সাল মিউজিক কানাডার মতে, পরপর দুটি গান মানসিক যন্ত্রণা এবং তা থেকে বেরিয়ে আসার এক আবেগঘন চিত্র তুলে ধরে। ক্রিশ্চিয়ান ব্রেসলাওয়ারের পরিচালনায় নির্মিত এই ভিডিওর সহ-প্রযোজনায় ছিলেন জাস্টিন ট্রান্টার। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন ক্রিশ্চিয়ান ব্রেসলাওয়ার।
ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের মধ্যেও পেরি সংগীত পরিবেশনা থামাননি। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল মেক্সিকো সিটিতে শুরু হওয়া তাঁর ‘লাইফটাইমস ট্যুর’ পাঁচ মহাদেশের ২৩টি দেশে মোট ৯১টি কনসার্ট শেষে ৭ ডিসেম্বর আবুধাবিতে গিয়ে সম্পন্ন হয়। অরল্যান্ডোর সঙ্গে বিচ্ছেদের খবরের সময় পেরি অস্ট্রেলিয়ায় কনসার্টে ব্যস্ত ছিলেন। কাছের বন্ধুরা দূরে থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে তিনি মঞ্চ মাতান। এই সফরের স্মৃতি নিয়ে তৈরি পল ডাগডেল পরিচালিত ‘কেটি পেরি: দ্য লাইফটাইমস ট্যুর-লাইভ ফ্রম প্যারিস’ চলচ্চিত্রটি ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর মুক্তি পায়, যেখানে প্যারিসের আকোর অ্যারেনার পরিবেশনা তুলে ধরা হয়েছে। পাঁচ মহাদেশে ৯১ কনসার্ট ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়েও কনসার্ট চালিয়ে গেছেন কেটি। তবে গানটির প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
১৯৮৪ সালের ২৫ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় ক্যাথেরিন এলিজাবেথ হাডসন হিসেবে জন্ম নেওয়া কেটি পেরি ছোটবেলায় গির্জায় গান গেয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে পপ ধারার সংগীতে এসে ২০০৮ সালে ‘আই কিসড আ গার্ল’ গানের মাধ্যমে বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান। ২০১০ সালের ‘টিনএজ ড্রিম’ অ্যালবামের পাঁচটি গান বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে জায়গা করে নিয়ে রেকর্ড গড়ে। ইউনিভার্সাল মিউজিক কানাডার ২০২৬ সালের জুনের তথ্যমতে, কেটির গান বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ১২ হাজার ৫০০ কোটির বেশিবার স্ট্রিম হয়েছে এবং তাঁর সাত কোটিরও বেশি অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাঁর একাধিক গান ও অ্যালবাম ডায়মন্ড সনদ লাভ করেছে। ২০০৮ সালে ‘আই কিসড আ গার্ল’ তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়।
সংগীতজীবনে সাফল্যের মাঝেও কেটিকে সমালোচনার মুখ পড়তে হয়েছে, যার মধ্যে ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘১৪৩’ অ্যালবামটি উল্লেখযোগ্য। তবে এসব সমালোচনা ও জীবনের নানা পরিবর্তন ছাপিয়ে এখন তাঁর কেন্দ্রবিন্দু ছয় বছর বয়সী মেয়ে ডেইজি। কাজের প্রতি মায়ের নিষ্ঠা ও সংগ্রাম যাতে মেয়ে সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে কনসার্ট সফরেও তিনি ডেইজিকে পাশে রাখেন। পেরির জন্মদিনে প্রকাশিত বিশেষ আয়োজনেও তুলে ধরা হয়েছে যে, একজন শক্ত মনের মা হিসেবে নিজের কাজ করে যাওয়াটা তাঁর কন্যাসন্তানের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাঁর আশা, মায়ের কাজ ও পরিশ্রম কাছ থেকে দেখে বড় হবে ডেইজি। তাঁর ভাষ্য, ডেইজি দেখছে, তার মা নিজের কাজের মধ্যে রয়েছেন; মাকে শক্ত থাকতে দেখছে—এটি মেয়ের জন্য ভালো।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.