
ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শুধু স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাই দেশ ছাড়েননি, তার দোসর হিসেবে পরিচিত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব ও ইমামও আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বুধবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস ও ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডবের বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে নতুন করে কোনো স্বৈরাচারী শক্তির উত্থান হতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা যতই ষড়যন্ত্র করুক, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচারী অপশক্তিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে কেবল শেখ হাসিনাই পালাননি, এই বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব ও ইমামও পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন—এটা যেন সবার স্মরণে থাকে।’।
সমাবেশে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরকে ইতিহাসের কলঙ্কিত দিন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সেদিন বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে লগি-বৈঠা নিয়ে বর্বর হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় সারাদেশে ৫৪ জন এবং রাজধানীতে ১৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করার দম্ভ করলেও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছে। শেখ হাসিনার পাশাপাশি বায়তুল মোকাররমের খতিব ও ইমামের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি দেশবাসীর মনে রাখা উচিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সারাদেশে ৫৪ জন এবং রাজধানীতে ১৪ জন নেতাকর্মীকে নৃশংসভাবে শহীদ করা হয়েছিল। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যারা জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন ও নির্মূল করার দম্ভ দেখিয়েছিল, চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তারা সকালে রান্না করে দুপুরে না খেয়েই পালিয়ে গেছে। কিন্তু এত রক্তপাত ঘটিয়েও আমাদের কর্মসূচি এক সেকেন্ডের জন্যও বন্ধ করা যায়নি, জামায়াতকে পল্টন থেকে হটানো যায়নি।’। জামায়াতের ওপর হামলা বা কর্মসূচি বানচালের অপচেষ্টা যারা করছেন, তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের চেয়েও করুণ হবে।’।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের পর বর্তমানে একটি গোষ্ঠী ফের একই ধরনের অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছে। যারা জামায়াতের কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে, তাদের পরিণাম আওয়ামী লীগের চেয়েও শোচনীয় হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। এছাড়া তিনি লগি-বৈঠা তাণ্ডবের খুনিদের ফাঁসি এবং বিগত সাড়ে ১৫ বছরে সংঘটিত সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান। বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করেছিল, আর বর্তমানের একটি পক্ষ মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই আওয়ামী লীগের সেই রূপ ধারণ করার চেষ্টা করছে।
উক্ত সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.