
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো ধরনের হামলা না চালানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে আশ্বস্ত হতে পারছে না তেহরান। ইরানের সংবাদপত্র আল-ওয়েফাকের প্রধান সম্পাদক মোখতার হাদ্দাদ জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথার ওপর দেশটির কোনো আস্থা নেই। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে ইরান তাদের সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করছে না। উল্টো যে কোনো সময়ে ট্রাম্প তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পরীক্ষা এবং সামরিক মহড়া পরিচালনা করা হচ্ছে।
হাদ্দাদের মতে, ট্রাম্পের অতীতে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে তার কথার ওপর আস্থার ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। ডনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো সময় আগের আলোচনা বা অবস্থান থেকে সরে আসতে পারেন, যা ইরানকে সতর্ক থাকতে বাধ্য করছে। তিনি আরও বলেন, তেহরান মনে করছে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অধীনে আগামী দুই বছর দেশটিকে ধারাবাহিক প্রতিকূলতা ও চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কোনো সমঝোতা হলেও ট্রাম্পের অনিশ্চিত আচরণের কারণে তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন তারা।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান দ্বিমুখী কৌশল অবলম্বন করছে। একদিকে যেমন স্বল্পমেয়াদে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী চাপ ও সংঘাতের জন্যেও দেশটি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রস্তুত রাখছে। হাদ্দাদের ভাষ্যমতে, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যেকোনো প্রতিকূলতা ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা মোকাবিলার জন্য সামরিক বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে।





