৮ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে স্পিকারকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published: October 24, 2026, 10:36 pm

বিচার বিভাগকে বাইরে রেখে বিরোধী দলের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত সংবিধান সংশোধন কমিটির এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অবতারণা হয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অমরা চাই বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করুক।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিচার বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান না করে বিরোধী দলের মতামতের ভিত্তিতে স্পিকারকে সেই দায়িত্বে নিয়ে আসার প্রস্তাব অনেকে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সংবিধান সংশোধন কমিটি মূলত একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছিল, যার সাথে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কমিটির কাজের কোনো তুলনা চলে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় সংবিধান সংশোধন কমিটি একদলীয় সরকারের ক্ষমতাকে স্থায়ী করতে চেয়েছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপি যদি তাদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের জায়গা থেকে সরে আসতে চায়, তবে তা সরাসরি বৈঠকে এসে জানানো উচিত। সরকার চায় সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল সক্রিয়ভাবে অংশ নিক। এছাড়া সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো অস্তিত্ব নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের রায়কে তারা সম্মান করেন, তবে এতে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কোনো গণভোট আয়োজনের সুযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করছে বিশেষ এই কমিটি। কমিটির আলোচনার মূল আলোচ্য সূচিতে ছিল সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পদ্ধতি সংস্কার। এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে কমিটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচনা হয় ৭০ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে।