
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে 'তেলাপোকা জনতা পার্টি' ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভের জেরে দিল্লিতে পুলিশ যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরতদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। রাজধানীজুড়ে ব্যারিকেড সরিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের পথ খুলে দেওয়া এবং ইন্টারনেট পরিষেবা অব্যাহত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ দেওয়া গেলেও তা কেবল 'অত্যন্ত জরুরি' ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সিজেপির সমর্থক, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ সংক্রান্ত এক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে—যেন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক না করা হয় এবং রাজধানীতে অবাধ চলাচলের ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হয়। মোহনার বেঞ্চ বলেছে, সিজেপি'র বিক্ষোভের ডাক সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের শর্তসাপেক্ষে মানুষের অবাধ চলাচলের বিষয়টি স্বাভাবিক রাখা উচিত।
বিক্ষোভের কারণে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ট্রেন ও মেট্রো চলাচলে যেন কোনো 'সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা' না থাকে, সেই বিষয়ে কেন্দ্রকে আগেই নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এরপরও মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ রাখার ঘটনাকে আদালতের অবমাননা বলে উল্লেখ করেছেন আবেদনকারী আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী। এছাড়া, জনসমাগম ঠেকাতে ব্যবহৃত ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) ২০২৩-এর ১৬৩ নম্বর ধারাটিও প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত জানায়, নাগরিকদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার থাকলেও তা অবশ্যই 'পুলিশ আইন'-এর কাঠামোর মধ্যে হতে হবে। বিচারপতি বাগচী আবেদনকারীদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিক্ষোভের অধিকার কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তবে বিক্ষোভের নামে দিল্লিকে স্থবির করে রাখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন বিচারকরা।
পুরো ঘটনাপ্রবাহ ও বিক্ষোভকারীদের আটকের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)-এর কাছে নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী মঙ্গলবার নাগাদ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.