
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহেদ কালামের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবসহ যাবতীয় আর্থিক তথ্য ও নথিপত্র তলব করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর এবং সুইজারল্যান্ডে তার জমি ক্রয় ও বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিদেশে ‘শেল কোম্পানি’ গঠন এবং বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দুদক। এই তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে নতুন করে আরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়।
নতুন অভিযোগের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নিয়োগ বাণিজ্য, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন ও সিটি করপোরেশনে টেন্ডার কমিশন গ্রহণের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। এসব অভিযোগে বিশ্বের পাঁচটি দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে সম্পাদিত সব নিয়োগ ও পদোন্নতির গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদক। অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও সাবেক যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপ-সচিব মো. সাঈদুর রহমানের নামও যুক্ত করা হয়েছে।
এই অনুসন্ধানের শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আসিফ মাহমুদ তার মানহানির অভিযোগ তুলেছিলেন। পরবর্তীতে ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের মুখপাত্র আখতারুল ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাহারে একটি আইনি নোটিশও পাঠানো হয়। তবে ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছিলেন যে, প্রচলিত বিধি অনুযায়ীই এ অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকবে। আগের অভিযোগের সাথে নতুন বিষয়গুলো যুক্ত করে সমন্বিতভাবে তদন্ত করছে কমিশন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে– দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে থাকা সব ধরনের হিসাবের (চালু, সুপ্ত বা বন্ধ) বিস্তারিত বিবরণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্র। চাকরির আরও তথ্য: গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেখানে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিজ দুই বোন জামাই ও ভাগ্নেকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: পাচারকৃত অর্থের মধ্যে দুবাইতে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাঠিয়ে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং ‘গ্রীন গ্রুপ’-এ মূলধন যোগানোর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর সিঙ্গাপুরে অবৈধ উপায়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এছাড়া, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে পর্তুগালে জমি ক্রয় করার বিষয়টি উঠে এসেছে অভিযোগে। চাকরির আরও তথ্য: দুদক জানায়, নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।


