৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন তথ্য: জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

Published: September 21, 2026, 11:36 am

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৬টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি যাত্রা শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সফরে মন্ত্রিসভার সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যক্তিগত সফরসঙ্গীরা রয়েছেন। প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সকাল ৬টা ৫ মিনিটে ঢাকা ছাড়ে।

ভ্রমণসূচি অনুযায়ী, ফ্লাইটটি আট ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের যাত্রা শেষে তুরস্কের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। সেখানে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের ট্রানজিট শেষে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটির অবতরণের কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. আসাদুজ্জামান খান।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম অংশগ্রহণ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি অধিবেশনে বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশে চলা ‘গণতান্ত্রিক নবযাত্রা’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা। ২০০০ সালে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির (আইসিসিপিআর) আলোকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তিনি বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করবেন। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জেএফকে বিমানবন্দরে বড় ধরণের জমায়েতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক শহরজুড়ে ব্যানার ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবেও তারেক রহমানের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১৯৮০ সালের আগস্টে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলায় ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। এছাড়া তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও ২০০৫ সালের বিশ্ব সম্মেলনসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো বিশ্ববাসীর সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’-এ নিয়ে যাওয়া হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার সহ সরকারি ঊধর্তন কর্মকর্তাগণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল ২০ সেপ্টম্বর (রোববার) ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বরাবরের মতো বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান বাংলায় ভাষণ দেবেন জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েকটি কারণে এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে মন্তব্য করে আসাদ আলম সিয়াম বলেন, প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিউ ইয়র্কে পৌঁছে তিনি আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন।