
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে আবারও পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় দুটি সংগঠনের ঘোষিত অবরোধ স্থগিত হওয়ায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে পর্যটকরা এই সড়ক ব্যবহার করে সাজেকে প্রবেশ করছেন। বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান মো. জসিম জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিএনজি, মাহিন্দ্রা ও পিকআপ মিলিয়ে অন্তত ১০০টি যানবাহনে প্রায় ৮০০ পর্যটক সাজেকে পৌঁছেছেন। ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পর্যটকদের আগমন শুরু হওয়ায় সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজ মালিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ‘খোয়াল বুক’ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক সমীরণ চাকমা জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে আগে থাকা অনেক বুকিং বাতিল হলেও আজ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বর্তমানে তাদের রিসোর্টে ৬০ শতাংশের মতো বুকিং রয়েছে। এছাড়া সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য সুপর্ণ দেববর্মণ জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে বর্তমানে গড়ে ৩০ শতাংশ বুকিং বজায় রয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে আরও উন্নত হবে। পূজার ছুটির সামনের দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।’। তাঁরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন দ্বিতীয় দফার অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি পালন শুরু করেছিল। মূলত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস—সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন দফা দাবিতে এই অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হয়েছিলেন। নিরাপত্তার খাতিরে গত রোববার জেলা প্রশাসন সাজেকে পর্যটক ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে প্রশাসনের আশ্বাসে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিতের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান। তিনি জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম সেতু ও মাচলঙের ১৪ কিলোসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ করা হয়। ১১ অক্টোবর একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা। এরপর গতকাল বুধবার যৌথ বিবৃতিতে দ্বিতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেন দুই সংগঠনের নেতারা। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অবরোধের নেপথ্যে থাকা দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, সাজেকে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করছেন। তবে এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে জনসংহতি সমিতি। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা পাল্টা দাবি করেন যে, সাজেকের সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা আড়াল করতেই এই মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার দাবি, ইউপিডিএফের চাপেই ওই দুটি সংগঠন অবরোধের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।





