
ফ্রান্সে সম্প্রতি অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সৃষ্ট বিক্ষোভ ও দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে দেশটির তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ফ্রান্সে ‘চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসন’ চলছে এবং দেশটির নেতারা এই অস্থিরতা মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। নেতানিয়াহুর এ বক্তব্য পশ্চিমা বিশ্বের উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিকদের অবস্থানের প্রতিধ্বনি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যারা প্রায়ই ভিত্তিহীনভাবে দাবি করেন যে অভিবাসনের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন অংশে ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এসব মন্তব্যের কারণে তার বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন বড় শহরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন দেশটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ।
আই২৪নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলে দোভাষীর মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ফরাসি নেতারা হাল ছেড়ে দিয়েছেন এবং চরমপন্থি ইসলামের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পরই তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, হামাসকে নির্মূল করা না গেলে তার প্রভাব প্যারিসেও পড়বে। তবে নিজের এই দাবির সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ হাজির করেননি। তিনি ফরাসি নেতাদের তোষণনীতির পথ পরিহার করে চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ফ্রান্সকে কী পরামর্শ দেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। নেতানিয়াহু আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে বলেছিলেন, ‘আমরা যদি এখানে তাদের নির্মূল করতে না পারি, তাহলে প্যারিসে তাদের দেখতে পাবেন। মঙ্গলবার দেয়া এক উসকানিমূলক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফ্রান্সের এ পরিস্থিতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও একই সুরে কথা বলেছেন। সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প দাবি করেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা মূলত অভিবাসনজনিত সমস্যা। তিনি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ফ্রান্সের উচিত তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন ট্রাম্প এবং এ নিয়ে নানা সময় বিতর্কিত ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। এ সময় তিনি কখনো কখনো জাতিগত ভীতিকে উসকে দেয়।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম, যা নিয়ে ইসরাইল বেশ ক্ষুব্ধ। এর আগে গত আগস্টে নেতানিয়াহু বৃটেনকে বিদ্রƒপ করে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন, যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল লন্ডন। ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে নেতানিয়াহুর বর্তমান মন্তব্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য কেবল বিভেদই সৃষ্টি করছে, যার কোনো শক্ত ভিত্তি নেই। তার ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লন্ডন একে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.