১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোণায় মাটিখুড়ে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার

Kongsotime

Published: September 25, 2026, 11:53 pm

নেত্রকোণায় নিখোঁজের ৭দিন পর নাজু আক্তার খাতুন (৩৪) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে সদর উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের নগুয়া-কুশলগাঁও এলাকার ঢুকিয়ালী নদীর পাড় থেকে মাটিখুড়ে ওই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নাজু আক্তার সদর উপজেলার কাটলী এলাকার ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। এ ঘটনায় তার স্বামী নুরুল আমিনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার নুরুল আমিন একই উপজেলার মৌগাতী ইউনিয়নের নগুয়া-কুশলগাঁও গ্রামের ইসলাম উদ্দিনের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন স্ত্রী নাজুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পারিবারিক বিরোধ ও ভরণপোষণের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাজু আক্তার নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই শুভ ২২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোণা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তদন্তে নেমে নুরুল আমিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিভিন্নসূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে নাজু আক্তার ও নুরুল আমিনের  বিয়ে হয়। তাদের ৬ বছরের একটি ছেলে ও আড়াই বছরের একটি মেয়ে আছে। নিজেদের মাঝে কলহের জেরে তাদের মধ্যে একাধিকবার তালাক ও পুণরায় বিয়ের ঘটনা ঘটেছে বলেও শোনা যায়।

নাজু আক্তার তার স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণের মামলা করেছিলেন। এ ছাড়া ধর্ষণের অভিযোগে করা নাজুর আক্তারের অন্য একটি মামলা বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন। ওই মামলার মীমাংসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন নুরুল আমিন।

নেত্রকোণা মডেল থানা সূত্র জানায়, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে খাটপুড়া ব্রিজসংলগ্ন শ্মশানের পাশে টাকা নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরুল আমিন নাজু আক্তারের বুকে ঘুষি মারেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে কাঁধে করে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে যান নুরুল আমিন । সেখানে নাজুকে তারই ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে  হত্যা করা হয়।
হত্যার পর তৃষ্ণার্ত হয়ে পাশের ধানক্ষেত থেকে পানি পান করেন নুরুল আমীন। পরে মরদেহ কাঁধে করে নিজের বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে কোদাল এনে গর্ত করে মরদেহটি মাটিচাপা দেন তিনি। নুরুল আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আজ (২৫ সেপ্টেম্বর) মাটির নিচে পুঁতে রাখা নাজুর মরদেহ উদ্ধার করে।


নেত্রকোণা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের জানান, নিখোঁজের ঘটনায় করা জিডির তদন্ত করতে গিয়ে নুরুল আমিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।