
মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাঘিনী দুর্গামন্দির পরিদর্শনের পর আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এলাকায় মাদকসেবী কিংবা বিক্রেতাদের তথ্য হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠালে অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে। তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এছাড়া দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা অবৈধ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কোনো জনপ্রতিনিধি বা নেতার নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদা দাবি করলে তাকে আটক করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এলাকায় মাদকসেবী, বিক্রেতা বা কারবারির সন্ধান পাওয়া গেলে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে তালিকা পাঠানো যাবে। ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ভিন্ন হলেও সবার পরিচয় বাংলাদেশি। দুর্নীতি, অপরাধ ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, শৈলকুপা থানার ১২৮টি মণ্ডপে সরকারি সহায়তা ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত ৪০টি মণ্ডপে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০০ কেজি করে চাল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৬টি বিশেষ মন্দিরের প্রতিটিতে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে, যা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছে যাবে।
আর্থিক অনিয়ম রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে চাকরি বা সড়ক নির্মাণের বরাদ্দ ছাড়ের ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্যের যে অভিযোগ ছিল, তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ ও বরাদ্দ নিয়েও হওয়া অনিয়মগুলো বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র রোগীদের সেবার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখানে তার ব্যক্তিগত শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা অনুদান দিচ্ছেন বলে তিনি জানান। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্ভয়ে ও আনন্দের সঙ্গে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন ও নিরাপত্তাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
সমাবেশে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. নোমান হুসাইন, পুলিশ সুপার আশিস বিন হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান, সার্কেলের এএসপি ইসফাকুল কবির সরকার, শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লাহসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিডার ড. প্রদীপ কুমার শাহা ও তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিশেষে মন্ত্রী শান্তি, নিরাপত্তা এবং দুর্নীতিমুক্ত একটি উন্নত শৈলকুপা গড়তে দল-মতনির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের শৈলকুপা গড়তে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, শৈলকুপাকে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.