
বিগত প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বান্দরবানে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রাম, পুলিশের লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার এবং বারবার কারাবরণের শিকার হওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন। দলের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা তৃণমূলের এই কর্মীরা বর্তমানে সুবিধাবাদীদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ে দলের সর্বস্তরে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও মারমুখী অবস্থানের মধ্যেও এই দম্পতিকে রাজপথে অটল থাকতে দেখা যায়।
দীর্ঘদিন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারিতে সক্রিয় থাকা ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা বান্দরবানের নেতা জাহাঙ্গীর আলম এবং তার স্ত্রী উম্মে কুলসুম লীনা তাদের আক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। উম্মে কুলসুম লীনা তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, গত সতেরো বছর ধরে তারা রাজপথে যুদ্ধ করেছেন এবং রক্ত দিয়েছেন। কিন্তু আজকের প্রেক্ষাপটে সেই ত্যাগী কর্মীরাই হতাশায় ডুবছেন, আর স্বৈরাচারের দোসররা পতাকার রঙ বদলে সুবিধা নিচ্ছে। আমরা করেছি লড়াই, রক্ত দিয়েছি, আর পতাকা ওড়াচ্ছে স্বৈরাচারের দোসররা!’।
সম্প্রতি তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাড়ে চার শতাধিক রাজনৈতিক মামলা এবং তার পরিবারের অমানবিক যন্ত্রণার কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেন। ড. জাহেদ উর রহমানের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে উম্মে কুলসুম লীনা বলেন, একজন রাজনীতিবিদের সংগ্রামের ভার কেবল তার একার নয়, বরং পুরো পরিবারকে এর মূল্য দিতে হয়। বারবার আদালত আর কারাগারের দরজায় স্বজনদের অপেক্ষার যে ইতিহাস, তার সঠিক মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত ১৭ বছরের কঠিন সময়ে বান্দরবানে বিভাগীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিটি আন্দোলনে জাহাঙ্গীর আলম ও উম্মে কুলসুম লীনা দম্পতি সরাসরি সম্মুখভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেছেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ের পথে জাহাঙ্গীর আলমকে বারবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে, হাতকড়া পরে আদালতে হাজির হতে হয়েছে এবং সহ্য করতে হয়েছে পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ।
রাজপথে এই দম্পতির বলিষ্ঠ উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নানা সময় বিদ্রুপ ও কটূক্তি করলেও তারা কখনো দমে যাননি। সব ধরনের সামাজিক ও মানসিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে তারা অটল থেকেছেন। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় এবং সুবিধাবাদীদের ভিড়ে ত্যাগীদের পেছনে পড়ে যাওয়া নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে এখন তীব্র অসন্তোষ স্পষ্ট। জাহাঙ্গীর আলম ও উম্মে কুলসুম লীনার মতো যারা সপরিবারে রাজনীতির কঠিন মূল্য দিয়েছেন, তাদের এই আক্ষেপ রাজনীতিতে ত্যাগীদের অবমূল্যায়নের এক বাস্তব চিত্রকেই সামনে তুলে আনছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.