
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার রুহুল আমীন নামের এক ব্যক্তি গ্রেপ্তারের একদিনের মাথায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এই ঘটনায় মহেশপুর ও জেলার অন্যান্য এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া রুহুল আমীন উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের হানিফপুর গ্রামের নেসার উদ্দীনের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর থানায় গত রোববার জিআর মামলা নম্বর ৯৪/২৬ দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৪৩৬ ও ৪২৭ ধারার অধীনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসআই টিপু সুলতানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রুহুল আমীনকে আটক করে আদালতে পাঠায়। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হেফাজত থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার একটি চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
মামলার বাদী ও যুবদল কর্মী হামিদুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক কার্যালয়ে এমন গুরুতর নাশকতার ঘটনায় জড়িত আসামি এত দ্রুত জামিন পাওয়ায় তারা হতাশ। তার মতে, যেসব ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে, সেগুলো জামিন অযোগ্য। এ অবস্থায় আসামিরা দ্রুত বেরিয়ে আসায় নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। যদিও আইন অনুযায়ী, মামলায় আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষ বিষয় এবং জামিন দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের বিচারিক এখতিয়ারভুক্ত।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই আসামিকে আটক করে আইনের অধীনে আদালতে সোপর্দ করেছে। তার মতে, মামলার ধারাগুলো জামিনযোগ্য না হলেও জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্তটি শুধুমাত্র আদালতের। এদিকে ঝিনাইদহের প্রধান সরকারি আইন কর্মকর্তা (পিপি) অ্যাডভোকেট মশিয়ূর রহমান বলেন, এ জাতীয় গুরুতর মামলায় সাধারণত জামিন হওয়ার কথা নয়, তবে আদালত যদি জামিন মঞ্জুর করে থাকেন, তবে সেটি আদালতের নিজস্ব এখতিয়ার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে গ্রেপ্তারের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামির জামিন পাওয়ার ঘটনায় মামলার বাদী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ধরনের আসামিরা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এলে নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।”।





