
কুমিল্লার শশীদল সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধারে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। শুক্রবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। বর্তমানে ওই দুই পুলিশ সদস্য নিরাপদে আছেন এবং তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুর্গম ও পাহাড়-জঙ্গলবেষ্টিত সীমান্ত এলাকার টপোগ্রাফির কারণে অনেক সময় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে সীমান্ত সুরক্ষা ও অখণ্ডতা রক্ষায় বিজিবি তার দায়িত্ব পালনে সবসময় বদ্ধপরিকর এবং এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত রয়েছে। যে ধরনের চ্যালেঞ্জ আসছে এগুলো আসবে এবং এগুলোকে মোকাবেলা করতে হবে। মাহবুব মুর্শেদ বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। একটি পুরোনো ছবি, অসম্পূর্ণ ভিডিও কিংবা যাচাই না করা বক্তব্য উদ্বেগ ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন উদ্বেগ থাকলে আগেই অবহিত করুন। সময়মতো পাওয়া একটি তথ্যও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আপনাদের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করুন, পরিবার নিয়ে আনন্দের সঙ্গে উৎসবে অংশ নিন।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি পরিচালক আরও জানান, দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তসহ সব ধরনের হুমকি মোকাবেলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছে। সীমান্তবর্তী নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং বৈধ ব্যবসা নিশ্চিত করতে বিজিবি নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে অবৈধভাবে পণ্য পাচার রোধে বাহিনীর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মাদকদ্রব্য, স্বর্ণ, বস্ত্র ও প্রসাধনী সামগ্রী রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন এবং ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মাদকের চালানের সাথে জড়িত ১ হাজার ৫৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সাথে অবৈধ অস্ত্র বিরোধী অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, একটি এসএমজি, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন ও ৩ হাজার ২১৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনি প্রক্রিয়ায় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মানবপাচার রোধে বিজিবির তৎপরতায় ৪২ জনকে উদ্ধারের পাশাপাশি ২০ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল পাচারের সময় জব্দ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে মাহবুব মুর্শেদ জানান, আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি এবং ব্যাটালিয়ন সদরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি মণ্ডপ রয়েছে। দুর্গম এলাকার ১৮৩টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী কুইক রেসপন্স ফোর্স মোতায়েনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। মণ্ডপের তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় করার জন্য ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পূজা চলাকালে গুজব বা সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কোনো তথ্য যেন ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। কোনো সংবেদনশীল তথ্য যাচাই না করে প্রচার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিজিবি সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সৌজন্য বজায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এই উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে বিজিবি পাশে রয়েছে। সেখানে এই বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্নক সহযোগিতা করছি। আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই আমরা এটা সম্পন্ন করতে পারব আনহার্ম, এটা আমরা সেভাবেই যোগাযোগ রেখেছি। আমাদের যে ঐতিহ্যবাহী বাহিনী এবং আমরা যেভাবে এই দায়িত্ব, রেসপন্সিবিলিটিস পালন করে আসছি, এই প্রক্রিয়াতে এই কার্যক্রমের সাথে এধরনের ইনসিডেন্ট কিন্তু নতুন নয়। তাই আমরা প্রস্তুত থাকি, আমাদের দায়িত্ব পালন করি, পাশাপাশি পেশাগতভাবে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও আমরা আমাদের সব ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে থাকি। যদি আমরা ওভারল একটা স্ট্যাটিস্টিক্স নেই, মোটা দাগে সীমান্তে স্থিতিশীলতা সীমান্তের সুরক্ষা আমরা এখন পর্যন্ত মনে হয় আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছি। এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে সহায়তা জোরদার করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলোর সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও রেকি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যথাস্থানে পৌঁছানো যায়। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাঝে যোগাযোগ সহজ হবে। ইতিমধ্যে সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যাতে প্রাপ্ত তথ্য দ্রুত মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। ঢাকা মহানগরীতে বিজিবির দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। সকলের সহযোগিতায় পূজার প্রতিটি দিন আপনাদের জন্য শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর থাকবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।





