১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Published: October 3, 2026, 11:07 am

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করছে। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সংলাপে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের নীতিগত নিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালা বাস্তবায়নে তার সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি আরও বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। সরকার এখন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি সেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণকে সহজে সেবা দেওয়ার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ এবং ‘হেলথ কার্ড’ ব্যবহারের কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতে এসব সেবাকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে একটি ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। এছাড়া, স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাদের ৮০ শতাংশই নারী। এই কর্মীরা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তরুণদের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দক্ষ করে তুলে উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপে সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শিক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হবে।

কৃষি ও পরিবেশ নিয়ে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিকে অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে প্রযুক্তি ও অর্থায়ন সহজ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে জলপথ ও খালের খনন কাজ, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পানি নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর করা হবে।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। যেহেতু সমস্যার উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধানও সেখানেই হতে হবে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সংলাপের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে চায়। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে, ৩ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান এই আয়োজনে শতাধিক দেশের দুই শতাধিক আলোচক, তিন শতাধিক ডেলিগেটসহ এক হাজারের বেশি অংশ নিয়েছেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন এ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’।”