
দুই দিনব্যাপী পুরস্কার বিতরণী উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচি। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানটি আজ শনিবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের দুই দিনে ঢাকা মহানগরের ৭১টি স্কুলের মোট ৫ হাজার ৮২৩ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে সমাপনী দিনে ৩৫টি স্কুলের ২ হাজার ৭২৯ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিজয়ীদের মধ্যে ৪ হাজার ৮০৫ জন ছাত্রী ও ১ হাজার ১৮ জন ছাত্র রয়েছে।
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই পড়ার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। যার মধ্যে ৪ হাজার ২৮৮ জন ‘শুভেচ্ছা’, ১ হাজার ৩৬৭ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ১৬৮ জন শিক্ষার্থী ‘সেরা পাঠক’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে উপস্থিত থেকে বিশিষ্টজনেরা শিক্ষার্থীদের বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, নেতিবাচকতা পরিহার করে বইয়ের মাধ্যমে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। প্যারাগন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি মশিউর রহমান জানান, জীবনের যেকোনো পর্যায়েই বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া লেখক ও অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বই পড়ে আলোকিত হওয়ার আহ্বান জানান। সকালের অধিবেশনে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘নেতিবাচক কোনো কিছুই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। লেখক ও অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ বলেন, ‘তোমাদের এই সময়টা হলো প্রস্তুত হওয়ার, সামনে তোমাদের অনেক সমস্যা আসবে, সেগুলো সমাধান করতে হবে। আমি তোমাদের অনুরোধ করব, বেশি বেশি বই পড়ো।’। আর তা সম্ভব হবে কারণ তোমরা বই পড়ে আলোকিত মানুষ হতে পেরেছ তাই।’।
বইপড়া কর্মসূচির প্রশংসা করে গ্রামীণফোন লিমিটেডের স্ট্র্যাটেজিক প্রোগ্রাম লিড সোহেল রানা বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের পরিধি বাড়াতে এই উদ্যোগটি অনন্য ভূমিকা রাখছে। অন্যান্যদের মধ্যে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ফরিদুর রেজা সাগর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম, সাবেক সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার আসাদুজ্জামান এবং কেন্দ্রের উপদেষ্টা অধ্যাপক রঞ্জনা সায়ীদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বই মনকে বড় করে, জানার পরিধি বাড়ে, জ্ঞানের ভান্ডার বিকশিত করে, জীবনকে সমৃদ্ধ করে তোলে।’।
এবারের আসরে বই পড়ার পাশাপাশি ডিজিটাল সচেতনতাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক একটি অনলাইন কোর্স চালু করা হয়েছে। একই সাথে মিলনায়তন প্রাঙ্গণে একটি ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’ স্থাপন করা হয়, যেখান থেকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। উৎসবের বিশেষ দিক ছিল পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের বিপুল উপস্থিতি।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.