২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় বাংলাদেশি অধ্যাপক মেহেদী

Published: October 10, 2026, 10:03 pm

টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গবেষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন ব্রুনাইপ্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেহেদী মাসুদ। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও এলসেভিয়ারের যৌথভাবে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ডস টপ ২% সায়েন্টিস্ট’ তালিকায় স্থান পাওয়ার পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা র‍্যাঙ্কিংয়ে নিজের অবস্থান করে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ব্রুনাইয়ের সুলতান শরীফ আলী ইসলামিক ইউনিভার্সিটির (UNISSA) ইসলামিক অর্থনীতি ও ফিন্যান্স অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর এ অর্জনে গর্বিত রাজাপুরের মানুষ ও বাংলাদেশি গবেষকসমাজ। সংশ্লিষ্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের পদ্ধতি ও তথ্যসূত্র অনুযায়ী এসব অবস্থান যাচাইযোগ্য।

ড. মেহেদী মাসুদের গবেষণার প্রভাব ও উদ্ধৃতির সংখ্যা বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক এই তালিকাগুলো তৈরি করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, গুগল স্কলারে তাঁর গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি ৭ হাজার ৩৯৫টিরও বেশি এবং তাঁর এইচ-ইনডেক্স ৪৪। এছাড়া স্কোপাস (Scopus) প্ল্যাটফর্মে তাঁর উদ্ধৃতির সংখ্যা ৩ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় তাঁর ধারাবাহিকতা কেবল স্ট্যানফোর্ডেই সীমাবদ্ধ নয়; SciRank Global-এর ২০২৫ সালের রেজিস্ট্রিতে বিশ্বের শীর্ষ ৫ শতাংশ গবেষকের তালিকায়ও তিনি জায়গা পেয়েছেন। পরিবেশ শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক স্কলারলি ইনডেক্সে তিনি বিশ্বের ১৫৭তম গবেষক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, Google Scholar-এ তাঁর গবেষণাকর্মের উদ্ধৃতি ৭ হাজার ৩৯৫টির বেশি এবং H-index ৪৪।

গবেষণার পাশাপাশি ড. মাসুদ মালয়েশিয়ার ‘আই-রিসাইকেল’ (iRECYCLE-Malaysia) প্রকল্পের মাধ্যমে ই-বর্জ্য থেকে মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার এবং সার্কুলার ইকোনমি নিয়ে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ও আসিয়ানভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এরিয়া (ERIA)-তে পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এছাড়া তিনি এফআরজিএস (FRGS) ও এলআরজিএস (LRGS)-এর মতো প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদানও অর্জন করেছেন। তাঁর প্রকাশিত কাজের তালিকায় রয়েছে ১২০টির বেশি পিয়ার-রিভিউড নিবন্ধ, দুটি একক গ্রন্থ এবং একাধিক বইয়ের অধ্যায়।

নিজের এই অর্জনকে ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে না দেখে তিনি এর কৃতিত্ব দিয়েছেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ড. মাসুদ মনে করেন, টেকসই উন্নয়ন কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এর সাথে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি রাজাপুরের ‘ড. মেহেদী মাসুদ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবেও সমাজসেবামূলক কাজ করছেন। স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, তাঁর এই সাফল্য তরুণ গবেষকদের উচ্চতর গবেষণায় উৎসাহিত করবে এবং ব্রুনাই ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি করবে।