
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে ১২-দফা ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। ‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দ্বিতীয়বারের মতো এই মেলার আয়োজনে যৌথভাবে ছিল একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (আইইএসডি)। আয়োজনে সহ-আয়োজকের ভূমিকায় ছিল বিইপিআরসি, বিআইআইএসএস এবং বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন।
উৎসব থেকে ঘোষিত ১২-দফা ঘোষণাপত্রে একটি পৃথক নবায়নযোগ্য জ্বালানি আইন প্রণয়ন, সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক বিস্তার, অ্যাগ্রিভোল্টেইক্স বিকাশ এবং স্মার্ট গ্রিড ও ব্যাটারি স্টোরেজের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের আধুনিকায়নের কথা বলা হয়। এছাড়া রেয়াতি ঋণ, গ্রিন বন্ড ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন সংগ্রহ, দেশিয় উৎপাদন বাড়ানো, যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে জোড় তাগিদ দেওয়া হয়। আয়োজকরা নিশ্চিত করেন যে, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের পাশাপাশি এতে সামাজিক ন্যায্যতা, জেন্ডার-সংবেদনশীলতা এবং নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষের অধিকারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জ্বালানি রূপান্তরের সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
ঘোষণাপত্রে জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা, স্বাধীন পর্যবেক্ষণ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রযুক্তি হস্তান্তর অংশীদারিত্ব জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আগামী ১২ মাসের মধ্যে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরি ও সবুজায়নে সম্পৃক্ত করতে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ও সুশাসন জোরদারের তাগিদ দেন।
সমাপনী দিনে দর্শনার্থীরা উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন, যেখানে দেশিয় উদ্ভাবক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শন করে। শেষ দিনের আয়োজনে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা পৃথক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজ নিজ দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশে জ্বালানি খাতের টেকসই নিরাপত্তার দিকনির্দেশনা দেন। উৎসবের শেষ দিনের প্রথম অংশে জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উচ্চপর্যায়ের একাধিক প্যারালাল সংলাপ ও প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত।
তরুণদের জন্য আয়োজিত ‘ফ্রম কমিউটমেন্ট টু কমিউনিটিঃ অ্যাডভান্সিং এ জাস্ট এনার্জি ট্রান্সজিশন থ্রু বাংলাদেশ এনডিসি ৩.০’ সংলাপে শায়লা শবনম রিচির পরিচালনায় বায়ুদূষণ রোধ, সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা ও আইওটি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অর্থায়ন ও বিনিয়োগ’ প্যানেলে একশনএইড বাংলাদেশের কাজী মোর্শেদ আলমের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন খান। এতে ইইউ প্রতিনিধি তানজিনা দিলশাদ, জিজিআই-এর সিইও নুরে আলম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের পরিচালক একেএম নুরুননবী বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও, তাপমাত্রা বৃদ্ধি মোকাবিলায় সৌরচালিত সেচব্যবস্থা ও আইওটি প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবনী সমাধান ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ইনোভেশন, টেকনোলজি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’, ‘সোশ্যাল-ইনভায়রনমেন্টাল সেফগার্ড অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব রিনিউয়েবল এনার্জি’ এবং ‘এনার্জি পলিসি অ্যান্ড গভরন্যান্স ফর এ জাস্ট ট্রানজিশন’ শিরোনামের সেশনগুলোতে গবেষক, শিক্ষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের যৌথ সমন্বয়ের গুরুত্ব এবং সোলার প্যানেল স্থাপন অধ্যাদেশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার পরিবেশনার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে।
মেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অবদান রাখা তরুণ উদ্ভাবকদের পুরস্কৃত করা হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে ফেলাইট প্রকল্প, দ্বিতীয় কার্বন ক্রেডিট বিডি এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে আইইউবি ফর্মুলা-ই প্রকল্প। বিজয়ী উদ্ভাবকদের সনদ ও সিডমানি দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইইউবি, বুয়েট ও ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের পোস্টার সেরা পোস্টার হিসেবে নির্বাচিত হয়। তাদেরকে স্বীকৃতি সনদ ও সিডমানি প্রদান করা হয়।
সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপার্সন ও সংসদ সদস্য জাহরাত আদিব চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড চেয়ার ইব্রাহিম খলিল আল জায়াদ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক এমএএ শওকত চৌধুরী ও জেটনেট-বিডির সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং সমাপনী বক্তব্য দেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিসের (বিআইআইএসএস) প্রতিনিধি ড. বেনুকা ফেরদৌসী, পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের প্রতিনিধি কুদরত ই খুদা, একশনএইড বাংলাদেশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ম্যানেজার শাব্বীর রহমান প্রমুখ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.