
চলতি বছরের জুন মাস শেষে বাংলাদেশে কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টিতে। এসব হিসাবে মোট জমা থাকা অর্থের পরিমাণ প্রায় পৌনে ৯ লাখ কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত তথ্য ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ঠিকানার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘দেশে কোটিপতি ১৪১৫৬২!’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল। ব্যাংক খাতের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১ কোটি ১ টাকা বা তার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ পরবর্তী মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে এই তালিকায় নতুন করে আরও ৫ হাজার ৭৭টি হিসাব যুক্ত হয়েছে। তবে এই কোটিপতি আমানতকারীদের মধ্যে মাত্র ২৮ থেকে ২৯ শতাংশ ব্যক্তি শ্রেণির, বাকি প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। বাংলা ভাষা নানা উপাদানে পুষ্ট হয়েছে। যার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে প্রবাদ-প্রবচন। ‘ঘোলা জলে মাছ শিকার’ প্রবাদটি সেই সব মেধাবী শিকারিদের জন্য প্রযোজ্য, যারা প্রতিকূল পরিবেশেও নিজের স্বার্থ বুঝে নিতে প্রাজ্ঞ। তারা চালাক, ধূর্ত না বুদ্ধিমান—বিশ্লেষণ করে পৃথক করা কঠিন। কিন্তু যত প্রতিকূলতা, যত প্রতিবন্ধকতা তাদের পথ আটকানোর চেষ্টা করুক, তারা ঠিকই সম্মুখের সকল বাধা পার হয়ে নিজের মোক্ষ লাভ করবেই। বাংলাদেশের অর্থ, ব্যবসা-বাণিজ্যের বেহাল দশার মধ্যেও যখন কোটিপতির সংখ্যাবৃদ্ধির খবর শুনতে পাওয়া যায়, তখন সেই কথাটাই কেবল মনে পড়ে, কী তেলেসমাতি কারবার। খবরটি শুরু হয়েছে এভাবে, ‘ব্যাংকে কোটিপতি আমানত হিসাব দ্রুত বাড়ছে। কোটিপতির হিসাব ও বড় অঙ্কের আমানত বৃদ্ধির প্রবণতার ভালো-মন্দ দুই দিকই আছে। ব্যাংকে বড় অঙ্কের জমা একদিকে ব্যাংকের তরল অর্থের জোগান বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে আবার বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতির ইঙ্গিত দেয়।
একই সময়ে ব্যাংকিং খাতের আরেকটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ‘মূলধন খুইয়ে চরম বিপাকে ২১ ব্যাংক’ শিরোনামের অন্য একটি সংবাদে জানানো হয়েছে, গত মার্চ পর্যন্ত তিন মাসের প্রান্তিক তথ্য অনুযায়ী দেশের ২১টি ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার ৭২০ কোটি টাকায়। গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকিং খাতের এই ভয়াবহ লুটপাটের চিত্র জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়েছে। প্রভাবশালী ব্যাংক উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের একাংশ জনগণের আমানতকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করে যেভাবে নির্বিচারে লুটপাট চালিয়েছে, তার ফলে ব্যাংকগুলো বর্তমানে অনেকটা রিক্ত বা ফোকলা হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.