
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের জের ধরে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। শুক্রবার বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীরা পথে নেমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। দিল্লিতে কংগ্রেস সমর্থকরা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার সময় ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। এছাড়া দুপুর ২টার পর যোগেন্দ্র যাদব, আইসা নেত্রী নেহা বরা, অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকেও আটক করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভের জন্য আগে থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ বেশ কয়েক জন কংগ্রেসকর্মীকে আটক করে। বিহারের পটনায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের উদ্দেশে কংগ্রেস সমর্থকদের এগিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি।
দিল্লি কংগ্রেসের সভাপতি দেবেন্দ্র যাদব অবিলম্বে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে মন্তব্য করেন যে, গণতন্ত্র ধ্বংসের প্রক্রিয়া মেনে নেওয়া যায় না। ভারতীয় যুব কংগ্রেসের কর্মীরা জ্ঞানেশ কুমারের মুখস পরে এবং হাতে হাতকড়া লাগিয়ে রায়সীনা রোড থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করেন। একই দাবিতে বিহারের পাটনায় পুলিশের জলকামানের মুখে পড়েন কংগ্রেস কর্মীরা। আসামে গৌরব গগৈসহ অনেককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া পুদুচেরি, ইম্ফল, শিমলা, শ্রীনগর, দেরাদুন, জম্মু ও কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভোটচুরির অভিযোগ তুলে 'তেলাপোকা জনতা পার্টি' নামে জেন-জিদের একটি দলও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টেও একটি আবেদন দায়ের করা হয়েছে। এতে ফর্ম ৬-এর পরিবর্তন, ভোটার তালিকার তথ্য কেন্দ্রীকরণ এবং অন্য দুই কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতবর্ষে গণতন্ত্রকে শেষ করে দেওয়া হবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকব, তা হয় না। অন্যথায় বড়সড় আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, এসব বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে অনেক যোগ্য ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর পরিচালনায় কমিশনারের ভূমিকা এবং কমিশনের ভেতরে সৃষ্ট মতবিরোধ নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.