১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ সৌদি জোটের, অস্বীকার হুতিদের

Published: October 2, 2026, 11:36 am

সৌদি আরবের মদিনা নগরীতে অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববির একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। গত বৃহস্পতিবার জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলাটি চালায়। এতে কেন্দ্রটির একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অটুট রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জোটের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও তদন্তের মাধ্যমে হুতিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এতে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

তবে সৌদি জোটের এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক শাখা। ইয়েমেনের সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে অভিহিত করেছে। হুতিদের অভিযোগ, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সৌদি আরব পবিত্র মক্কা ও মদিনা নগরী নিয়ে এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে মক্কা নগরীতেও হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ, তবে হুতিরা বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। ড্রোনটি মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারের হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদিতে হুতিদের আক্রমণ কেন মক্কা চুক্তির প্রথম অগ্নিপরীক্ষা।

সৌদি জোটের দাবি, মদিনার এই হামলার মাধ্যমে হুতিরা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যা মুসলিম বিশ্বের পবিত্র স্থান ও মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। পাল্টা অভিযোগে হুতিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সৌদি জোট হামলা চালিয়েছে। তবে এই বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইয়েমেন সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র সানায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

মদিনার এই ঘটনার পাশাপাশি সৌদি জোট জানিয়েছে, খামিস মুশাইত শহরের দিকে ধাবমান হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য মেলেনি। এদিকে, শুক্রবার ভোরে ইয়েমেনের এডেন নগরীতে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর লক্ষ্য করেও কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অবশ্য এই সর্বশেষ হামলা নিয়ে হুতি বিদ্রোহী বা সৌদি জোটের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর থেকে মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টার একাধিক অভিযোগ এনেছে সৌদি জোট। তবে হুতিরা বরাবরই দাবি করেছে যে, তাদের লড়াই ইয়েমেনের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তারা ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা চালানো থেকে বিরত থাকে। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা। মুসলিমদের উসকে দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জোটটি।