৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ এড়াতে যৌথ নিরাপত্তার আহ্বান কাতারের আমিরের

Published: September 23, 2026, 12:44 pm

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় পরিস্থিতি ও যুদ্ধ এড়ানোর জরুরি বার্তা দিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট ব্যবস্থাপনা ও অবাস্তব কূটনৈতিক কৌশলের কারণে সৃষ্ট এই অচলাবস্থা নিরসনে তিনি আঞ্চলিক ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শেখ তামিমের মতে, এই ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব যদি প্রতিটি রাষ্ট্র একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, সঠিক নিরাপত্তাকাঠামো না থাকলে একটি দেশের বিবাদ অন্য দেশের ওপর চেপে বসতে পারে, যা অপ্রয়োজনীয় সংঘাত ও অবকাঠামোগত ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ জ্বালানি বাণিজ্যের এই পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্য ও ওষুধের দামের ওপর এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গাজায় চলমান সংঘাতকে ‘পূর্ণাঙ্গ গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে কাতারের আমির বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও প্রশ্ন উপেক্ষা করে কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ন্যায়সংগত হতে পারে না। তিনি ইসরায়েলের প্রতি অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ, অবরুদ্ধ গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। একইসঙ্গে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সিরিয়া, লেবানন ও আঞ্চলিক অন্যান্য সংকটের বিষয়েও কথা বলেন শেখ তামিম। তার ভাষ্যমতে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল আঞ্চলিক নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। বিশেষ করে সিরিয়ায় হামলা ও ১৯৬৭ সাল থেকে গোলান মালভূমি দখলে রাখা এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি সেনার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

আঞ্চলিক অস্থিরতা কমাতে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধের তাগিদ দেন তিনি। একইসঙ্গে সিরিয়া ও লিবিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কাতারের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ইয়েমেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সুদানের টেকসই শান্তি ও সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তিনি পূর্ণ সমর্থন জানান। পরিশেষে আমির বলেন, কাতারের পররাষ্ট্রনীতির মূলভিত্তি হলো প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সমন্বয়, যা কেবল স্লোগান নয় বরং এটি তাদের জাতীয় মর্যাদার অংশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কূটনৈতিক উপায়ে উপসাগরীয় সংকট সমাধান করা সম্ভব এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালু করে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানসহ পুরো অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিরোধ নিষ্পত্তির পথ হওয়া উচিত সংলাপ ও আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিও এর অংশ হওয়া উচিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে একটি পক্ষ তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে, যে যুদ্ধ তাদের নিজেদের নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো চাপ ও দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠলে এর মূল্য দিতে হয় বিশ্বের সাধারণ মানুষকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাজায় যা ঘটেছে, তাকে তিনি ‘সব অর্থেই গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এই বিপর্যয় ঠেকাতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার মাত্রা ও বিপর্যয়ের ব্যাপকতার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শেখ তামিম অভিযোগ করেন, গাজার জনগণকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়াকে সমাধান হিসেবে দেখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।