
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। উৎপাদন আশানুরূপ হলেও পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৭ থেকে ১৮ টাকায়। অথচ কয়েক দফা হাতবদল হয়ে খুচরা বাজারে সেই একই মরিচ ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। উৎপাদক ও ভোক্তা পর্যায়ে দামের এই বড় পার্থক্যের কারণে একদিকে যেমন কৃষকরা লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মাদারগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কৃষকদের আগ্রহ ও অনুকূল পরিবেশের কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ময়নামতি, গ্রিন সুপার, নাগা ফায়ার, বিজলি, গ্রিন স্টার, সুপার ও প্রিমিয়ামসহ নানা জাতের মরিচ চাষ করা হয়েছে।
জোড়খালী ইউনিয়নের ফুলজোড় এলাকার কৃষক তাহেরুল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘা জমিতে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজারদরে সার ও কীটনাশকের খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক জহুরুল খানের ভাষ্যমতে, এক বিঘা জমিতে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে এ পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ৩ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পেরেছেন তিনি। সুখনগরীর কৃষক বেলাল ফকির জানান, ফলন ভালো হলেও দাম কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামীতে অনেক কৃষক মরিচ চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, এ বছর উপজেলায় মরিচের ফলন বেশ ভালো হয়েছে এবং উৎপাদন ৪২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব মরিচ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমান বাজারদর কিছুটা কম থাকলেও, আগামীতে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং কৃষকরা তখন লাভবান হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।





