৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ শুরু

Published: October 15, 2026, 4:33 pm

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া আবার শুরু হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে পুনরায় সচল করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগকে দুই দেশের শ্রম সহযোগিতার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এজেন্সিগুলোর যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মালয়েশিয়া সরকারের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর জন্য মোট ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি ‘বোয়েসেল’, ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং আরও ৩১২টি সাধারণ রিক্রুটিং এজেন্সি। ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বরের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই এজেন্সিগুলো নির্বাচন করা হয়েছে। একপর্যায়ে বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কিছু শর্তে নমনীয়তা দেখায় মালয়েশিয়া। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক প্রসেসিংয়ের দায়িত্বে থাকা বোয়েসেল ও অন্য ২৫টি প্রসেসিং/সার্ভিস এজেন্সি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে বিএমইটির ছাড়পত্রের জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।

শ্রমবাজার চালুর পাশাপাশি আরও একটি বড় সুখবর জানিয়েছে সরকার। বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে বা ‘জিরো কস্ট’ মডেলে নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ওপর জোর দেয় এবং প্রধানমন্ত্রী তার মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাঠামো সম্পর্কে মন্ত্রণালয় জানায়, তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো নিজেরাই মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা খুঁজে বের করতে এবং চাকরির চাহিদাপত্র বা জব অর্ডার সংগ্রহ করতে পারবে। জব অর্ডার সংগ্রহকারী এজেন্সিই বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুসরণ করে কর্মী বাছাই ও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। অন্যদিকে, বোয়েসেলসহ ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসহ প্রশাসনিক কার্যাবলি সম্পাদনে সহায়তা করবে। প্রতিটি এজেন্সির নিজস্ব ব্যবসায়িক স্বাধীনতা ও জবাবদিহি বজায় রাখতে তারা বিএমইটি থেকে নিজস্ব লাইসেন্সের মাধ্যমে ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে পারবে। এ কারণে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোনো কর্মীর ওপর যেন অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না চাপে, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে। নিরাপদ ও সাশ্রয়ী অভিবাসন নিশ্চিত করতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নিয়োগের স্বচ্ছতা বজায় রাখার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি বর্তমানে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলমান। শ্রমবাজার চালুর গতি ধরে রাখতে সরকার প্রথমে বিদ্যমান তালিকা থেকে ফ্যাসিবাদ ও অনিয়মের সাথে জড়িত বিতর্কিত সেন্টারগুলোকে বাদ দিয়ে বাকি সেন্টারগুলোর মাধ্যমেই কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে নতুন নীতিমালার আলোকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করবে।

মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলো বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারিতে থাকবে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে সেই সেন্টারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে নতুন মেডিকেল সেন্টার তালিকায় যুক্ত করা হবে, যা নিয়মিতভাবে প্রচার করা হবে। কোনো নির্দিষ্ট মেডিকেল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দেওয়া হবে না, যাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য না থাকে। এসব সেন্টারকে স্থানীয় আইন ও নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় কার্যকর দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক মনোভাব ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। আগ্রহী কর্মীরা এখন অনুমোদিত এজেন্সি এবং মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে যথাযথ নিয়ম মেনে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ও সহায়ক দলিলসহ ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।