
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এলাকার মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় অঙ্কের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে একনেকের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা এই খবর আসার পর আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেল। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ায় স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের মানুষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামের প্রতি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছেন। তারা আশা করছেন, বড় এই প্রকল্পটির সঠিক বাস্তবায়ন হলে কোম্পানীগঞ্জ এবং আশপাশের উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হবে। এর সুবাদে স্থানীয় এলাকার মৎস্য, কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্যে রয়েছে মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ এবং সংলগ্ন নদীর অববাহিকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালে নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা তাদের ফসলি জমি এবং ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করে আসছিল। নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনায় একটি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধান আসবে বলে তাদের ধারণা।
এই প্রকল্প নিয়ে বসুরহাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও বসুরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মতিন লিটন বলেন, নদীভাঙনের শিকার হয়ে কোম্পানীগঞ্জের হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হারিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলের এই জনপদ নিরাপদ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। একই সুর মেলালেন কবিরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু। তিনি উল্লেখ করেন, নদীভাঙনে বিস্তীর্ণ চাষের জমি বিলীন হয়েছে। সঠিক বাস্তবায়নের পর এই জমিগুলো পুনরায় আবাদের উপযোগী হবে এবং মুছাপুর অঞ্চলে নতুন করে পর্যটন সম্ভাবনাও জেগে উঠবে।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, এই প্রকল্পের কাজ অবিলম্বে শুরু করা এবং সুচারুভাবে শেষ করা জরুরি। তবেই উপকূলীয় মানুষের দুঃখ ঘুচবে এবং কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় যোগাযোগের নতুন দ্বার খুলবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে নদীতে তলিয়ে যায়। এর পর থেকেই ওই অঞ্চলে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে কোম্পানীগঞ্জ ছাড়াও ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঞা এলাকায়।
ভেঙে যাওয়া রেগুলেটরটির স্থানে নতুন করে একটি টেকসই অবকাঠামো গড়ার অংশ হিসেবেই সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রকল্প পাসের খুশিতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে বসুরহাটে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থানীয় নেতারা কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ব্যাপারে জোরালো দাবি জানান। তারা বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিতে তদারকি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বা যেকোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম রুখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম শিকদার, বসুরহাট পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফজলুল কবির ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান রাজন এবং বসুরহাট পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক ওবায়দুল হক রাপেলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.