
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাইয়েদ মুজতবা খামেনি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। প্রায় এক মাস আগে খামেনির সঙ্গে সরাসরি কয়েক ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গত বুধবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের পরবর্তী দিনে ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন তিনি। এর মধ্যেই পেজেশকিয়ান সরাসরি তার সঙ্গে সাক্ষাতের তথ্য জানিয়ে তার সুস্থতার বিষয়টি সামনে আনলেন। সে সময় তাদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মুজতবা খামেনি দেশটির নেতৃত্বের হাল ধরেন। ওই একই হামলায় মুজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তবে তার আঘাতের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তখন প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘ প্রায় সাত মাস জনসমক্ষে না আসায় তার শারীরিক অবস্থা ও দেশ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার সঙ্গে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের ছবি ও ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে সেসব গুঞ্জন প্রশমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের সাংবাদিক ব্রেট বেয়ারের সঙ্গে কথোপকথনে পেজেশকিয়ান জানান, তিনি নিজে মুজতবা খামেনির সঙ্গে গত মাসে সাক্ষাৎ করেছেন এবং দীর্ঘ আলোচনায় তাকে পুরোপুরি কর্মক্ষম ও সচেতন পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, সর্বোচ্চ নেতা নিজেই বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিচ্ছেন, যা বাস্তবায়নের কাজ করছে বর্তমান প্রশাসন। এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারেও প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন যে, আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত প্রায় সাত ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকে তাদের মধ্যে দেশের জীবনযাত্রার ব্যয়, বেকারত্ব সমস্যা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় ঐক্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। প্রায় ৭ ঘণ্টার ওই আলোচনায় ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে কথা হয়।
চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সংঘাত প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না এবং তেহরান কখনো কোনো সংঘাতের সূচনা করেনি। তবে দেশের ওপর কোনো হামলা চালানো হলে আত্মরক্ষার স্বার্থে শক্ত জবাব দেওয়া ছাড়া তাদের কাছে অন্য কোনো বিকল্প থাকে না। এছাড়া জুলাই মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্মারক চুক্তিকে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় রূপ দেওয়ার বিষয়ে তেহরান এখনো আগ্রহী বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট ও ফক্স নিউজের ভাষ্য অনুযায়ী, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তার ইঙ্গিত বহন করে। তবে কেউ যদি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে দেশটি দৃঢ়ভাবে তার জবাব দেবে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.