১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে আবেগাপ্লুত স্কালোনি

Published: October 4, 2026, 10:11 pm

আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় আর্জেন্টিনার মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার ফুটবলের ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এটিই নীল-সাদা জার্সিতে মহাতারকা লিওনেল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হতে চলেছে। এই বিদায়লগ্নে কোনো ধরনের খামতি রাখতে চায় না আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

এর আগে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় জয় পাওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি কথা বলেছেন মেসির বর্ণিল ক্যারিয়ার, তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে ভক্তদের টিকিটের তীব্র চাহিদা ও উন্মাদনা প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ‘যদি পাঁচটি মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামও থাকত, তবুও সেগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যেত। সব জায়গা থেকে ইতিবাচক বার্তা পাচ্ছি। যা বলার ছিল তা হয়েছে, এখন শুধু মুহূর্তটি উপভোগ করার পালা।’ এই ম্যাচটিকে ঘিরেই পুরো আর্জেন্টিনায় শুরু হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। আমার মনে হয় যা বলার সবই বলা হয়ে গেছে; এখন শুধু সময়টা উপভোগ করার বাকি।’। মেসির অবসরের ঘোষণা প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘সে চলে যাওয়ার পর যে নস্টালজিয়ার কথা আমরা সব সময় বলি, এখন সত্যিই সে আর জাতীয় দলে থাকবে না।

মেসির অবসরের বিষয়ে স্কালোনি বেশ আবেগপ্রবণ। তিনি জানান, মেসি বিদায় নিলে যে নস্টালজিয়া তৈরি হবে, তা সবাই অনুভব করছে, এমনকি খোদ মেসি নিজেও। ৩১ আগস্ট দুই পৃষ্ঠার হাতে লেখা চিঠিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন মেসি। স্পেন বিশ্বকাপের ফাইনালের হতাশা এবং বাবাকে হারানোর ব্যক্তিগত শোক কাটিয়ে উঠতেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে জানা যায়।

স্কালোনির মতে, মেসির রেখে যাওয়া লিগ্যাসির কোনো বিকল্প নেই। তিনি মেসির পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন, ‘তার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল দলের প্রতি অদম্য দায়বদ্ধতা। সে সব সময় অনুশীলনে সবার আগে আসত এবং সবার শেষে মাঠ ছাড়ত। তার এই নিবেদন বাইরে থেকে বোঝা কঠিন হলেও সতীর্থরা তা প্রত্যক্ষ করেছে।’ কোচের ভাষায়, ফুটবল মাঠে মেসির যে নান্দনিক প্রভাব, তা তিনি আর কারও মধ্যে দেখেননি। মনুমেন্তালের মাঠে সে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই এটি সবার জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন হয়ে উঠবে।’। কোচের ভাষায়, ‘তার রেখে যাওয়া সবচেয়ে বড় লিগ্যাসি হলো সব সময় দলের সঙ্গে থাকার তার অদম্য ইচ্ছা। সে যেভাবে নিজের যত্ন নেয়, প্রতিটি ম্যাচকে যেভাবে দেখে—বাইরের মানুষের চোখে হয়তো এগুলো অধরা থেকে যায়, কিন্তু তার সতীর্থরা তা ঠিকই দেখতে পায়।’।

এদিকে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন স্কালোনি। ম্যাচটির প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি ইতিবাচক থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। দূরপাল্লার ভ্রমণ সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা এসে ম্যাচ খেলায় বুরকিনা ফাসো দলের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। তবে নিজের চুক্তি নবায়ন বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই মুহূর্তে নতুন কোনো আপডেট নেই।

পরিশেষে, বুধবারের ম্যাচটি কেবল একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং এটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের একটি সোনালী অধ্যায়ের আবেগঘন সমাপ্তি। মেসি চলে গেলেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দল তাদের নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদী স্কালোনি।