
বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং আচরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম দেখভাল করছেন। তবে অনেক নেতার অভিযোগ, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছেন এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করছেন না।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় প্রবাসী নেতাদের অনেকেরই অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দলের রাজনৈতিক অবদান ও আত্মত্যাগের সঠিক স্বীকৃতি মিলছে না। বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেনের সময়কালীন রাজনৈতিক অস্থিরতায় তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যারা যুক্তরাষ্ট্রে রাজপথে সরব ছিলেন, তাদের দীর্ঘদিনের ভূমিকা এখন দলীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেরই ধারণা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত সাংগঠনিক চিত্র তুলে ধরছেন না খোকন।
নেতা-কর্মীদের দাবি, মতের অমিল হলেই আনোয়ার হোসেন খোকন অত্যন্ত কঠোর ও ধমকের সুরে কথা বলেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে জেএফকে বিমানবন্দরে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত স্বাগত কর্মসূচিতেও কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্কে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চে বসার বিষয় নিয়ে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে উচ্চবাচ্যের ঘটনা ঘটে। সেখানে উপস্থিত অনেক প্রবীণ নেতা অভিযোগ করেন যে, খোকন তাদের উপেক্ষা করেছেন। তাদের মতে, অনেকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আনোয়ার হোসেন খোকনের চেয়েও দীর্ঘ। এই প্রবীণ নেতারা মনে করছেন, খোকনের এমন আচরণ দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
সংগঠনের ভেতরে সৃষ্ট এই অস্থিরতা ও ক্ষোভের মুখে এখন অনেকে সরাসরি তার নেতৃত্বের বিরোধিতা শুরু করেছেন। দলের একাধিক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের চলমান সফরেও যদি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তবে খোকনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ আরও বাড়তে পারে। দলের অনেক কর্মীর সাফ কথা, কমিটি গঠিত না হলে তারা আর খোকনের নেতৃত্ব মেনে নিতে প্রস্তুত নন।
এই সার্বিক বিষয়ে আনোয়ার হোসেন খোকনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এছাড়া টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে তার মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত তিনি কোনো সাড়া দেননি। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে সৃষ্টি হওয়া এই অচলাবস্থা দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : শিরিন জাহান, সম্পাদক ও প্রকাশক : ফেরদৌস আহমদ,,
সহযোগী সম্পাদক : আহমাদ আর রাফি রাতুল, আহমাদ আর রাফি রাহী।
মেইল: editor@kongstime.com
মোবাইল: 01567927369
Copyright © 2026 kongsotime.com. All rights reserved.