২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু: ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল জড়িতদের পরিচয়

Published: October 8, 2026, 11:25 pm

রংপুরে আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে এসেছে। এতে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামতের সঙ্গে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ নমুনার হুবহু মিল পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সাথে অভিযুক্তদের নমুনার মিল পাওয়ায় এই ঘটনায় অপরাধীদের শনাক্তকরণের বিষয়টি এখন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। এরাই যে প্রকৃতপক্ষে হত্যাকারী, তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।”।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর নমুনা সংগ্রহের পর ২৯ সেপ্টেম্বর তা ঢাকা সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত খেজুর, শসা, বিড়ির অবশিষ্টাংশসহ মোট ৩৫টি আলামতের সাথে তাদের ডিএনএ নমুনার মিল মিলেছে। এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে তাদের ডোপ টেস্টসহ প্রাথমিক পরীক্ষায়ও পজিটিভ ফলাফল পাওয়া গিয়েছিল। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর সেগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। তিনি বলেন, “বিশেষ করে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ মিলে গণপতি চক্রবর্তী মাস্টারসহ পরিবারের সবাইকে হত্যার পর বাসায় বসে যে খেজুর, শসা এবং বিড়ি খেয়েছিল, সেগুলো উদ্ধার করে আমরা ঢাকায় সিআইডির ল্যাবে পাঠিয়েছিলাম। পাশাপাশি ছোট-বড় আরও ৩৫টি আলামত সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছিল।

উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী আরও বলেন, সব ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় সত্যতা পাওয়ায় এ মামলা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। এর ফলে যারা এতদিন বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছিল, তাদের অপচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে। যদিও এখনো হাতেগোনা কিছু আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি, তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই সব নথিপত্র হাতে পাওয়ার বিষয়ে পুলিশ আশাবাদী।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুব রশিদ নিশ্চিত করেছেন যে, সব রিপোর্ট পজিটিভ আসায় মামলার মূল আসামিরা শনাক্ত হয়েছে। তিনি জানান, এখন তদন্তের দাপ্তরিক প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত সম্পন্ন করে অতিসত্বর আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হবে।

পুলিশের দাবি, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার সাথে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখন আইনগতভাবে আরও শক্তিশালী ভিত্তি পেয়েছে, যা বিচারিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।